রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতকে তুলোধুনা করলো জাতিসংঘ || উদ্বাস্তুদের সমর্থনে মিছিল কলকাতায়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কলকাতা থেকে দীপঙ্কর দাসগুপ্ত


রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ফিরিয়ে দিতে ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের নিন্দা জানালো জাতিদসংঘ। মিয়ানমারে সংঘর্ষের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে যারা ভারতে ঢুকেছে তাদের ফেরৎ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। তারই প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনার জিয়ার রাদ আল হুসাইন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারত এ কাজ করতে পারে না। এ দিকে সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হবে ১৮ সেপ্টম্বর।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তাদের দেশে যখন হিংসা নামিয়ে আনা হয়েছে, তথন তাদের ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন হুসাইন।
৪০ হাজরের মত রোহিঙ্গা ভারতে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ হাজার পেয়েছে উবাস্তু সংক্রান্ত নথি। হুসেইন বলেছেন,, ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক বারবার দাবি করে আসছে, ভারত যেহেতু উদ্বাস্তু সনদে স্বাক্ণরকারী দেশ নয়, সে কারণে আন্তর্জাতিক আইনকে তারা পরিহার করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই যৌথ অপসারণ বা ফিরিয়ে দেয়ার পদক্ষে ভারত নিতে পারে না। ঠেলে দিতে পারে না এমন জায়গায়, যে খানে রোহিঙ্গাদের অত্যাচারিত হওয়ার ঝুঁকি অথবা গুরুতর হিংসার মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমরা সংখ্যালঘু। সেখানে অস্বীকার করা তাদের নাগরিকত্ব,নিত্যদিন তারা বঞ্চনার শিকার।আগস্টের ২৫ তারিখ রাখাইনে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনিকে আক্রমণ করলে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়। হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে যে ভাবে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তা পাঠ্যবইয়ে জাতিগত নিধনের উদাহরণ হয়ে থাকবে। অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাথাইন প্রদেশে ঢুকতে না দেয়ার কারণে সেখান পরিস্থিতি পুরোপুার নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। গতমাসে ময়িানমারের রাখাইন এলাকায় সামরিক অভিযান শুরু পর প্রায় তিন ণাথ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার উত্তাল মিছিল হয়েছে কলকাতায়। মিছিল থেকে স্লোগান উঠেছেÑ কলকাতা রোহিঙ্গাদের পাশেই আছে। রোহিঙ্গাদের সমর্থনে এই মিছিলে আক্রমণের অভিমুথ ছিল দিল্লিন মোদি সরকারের দিকে। মিছিলের শুরুতে বক্তব্য রাথতে গিয়ে সিপিআই(এম);র অন্যতম শীর্ষ নেতা সুজন চক্রর্তী বলেছেন, সরকার আরো দায়িত্ব বোধসম্পন্ন হতে হবে। সরকারের অমানবিকতা বন্ধ করতে হরেব এখনই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মায়ান,ান কেন গিয়েছিলেন? এই সব চক্রান্ত করবে বলে? ভারত কেন উদ্বাস্তুদের দায়িত্ত নেবে না? তিনি বলেন এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানো চলবে না। তাদের উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও গণসংগঠন সামিল হয়েছিল সোমবারের মিছিলে।