রোহিঙ্গা ইস্যুর দ্রুত সমাধান করতে হবে || বড় ভূমিকা রাখতে হবে জাতিসংঘকে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমারের রাখাইনে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখন রোহিঙ্গাদের প্রমাণ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। কারণ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্যাতন হত্যার পাশাপাশি জালিয়ে দিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি। রাখাইনে নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে ছুটে আসছে বাংলাদেশে। তাই এক্ষেত্রে জাতিসংঘকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ দিনে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৯০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। সীমান্তে নাফ নদী পার হতে গিয়ে অনেকে ডুবে মারা যাচ্ছে। সর্বশেষ ২৫ আগস্ট ফের অভিযান শুরু হওয়ার পর পালাতে গিয়ে পরবর্তী এক সপ্তাহে নাফ নদীতে ডুবে অনেকে মারা গেছে। এ পর্যন্ত ৫৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
মিয়ানমারে চলমান বর্বর ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সোচ্চার ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবাদ যা হচ্ছে তা অনেকটা দায়সারা গোছের। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে। এখানে আরো উদ্বেগের বিষয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে উগ্র বৌদ্ধরাও রোহিঙ্গাদের নিধনের পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর, চাষাবাদ, এমনকি মসজিদসহ গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
তবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলে আসছে বছরের পর বছর। তাদের ওপর বর্বর হামলা-নির্যাতনের কারণে সেখান থেকে পালিয়ে এসে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে বসবাস করছে।  বাংলাদেশে প্রথম রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে ১৯৭৮ সালে। কয়েক লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছিল তখন। এদের মধ্যে পরে অনেকে ফিরে গেলেও অনেকেই থেকে যায় বাংলাদেশে। কিন্তু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা বন্ধ হয়নি। ’৭৮-র পর বড় ধরনের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে ১৯৯১ সালে। আর গত বছর সেনা অভিযানের মুখে ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
বছরের পর বছর সেখানে এ সংকট বিরাজ করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে কোনো অগ্রগতি নেই। সর্বশেষ জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে একটি জাতিসংঘ কমিশন গঠিত হয়। আশা করা হচ্ছিল, এবার স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া যাবে। কিন্তু আনান কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তরের পরের দিন সেখানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সে আশার আলো ফিকে হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর হতে পারে।  সেরকম কিছু হলে মানবতার জন্য তা হবে লজ্জাজনক। তাই মানবতার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। আশার কথা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিভিন্ন মুসলিম দেশ রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টির সুরাহা করার জন্য এ মাসে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ তৈরি করতে হবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া সাময়িক উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না।
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিতিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের বিপুল পরিমাণ নাগরিককে আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা। আমরা শুধু মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছি।’ তাই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে জাতিসংঘকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ