রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৭ এনজিওকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৮, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত সাত বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ গেছে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে। সরকারবিরোধী প্রচারণা, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, রোহিঙ্গা শিশুদের বাংলা ভাষায় পাঠদানসহ নানা বির্তকিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ সুপারিশ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এই সাত এনজিওর মধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনও রয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারিতে ওই সাত এনজিও’র বিতর্কিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে গত ৪ জানুয়ারি এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে সুপারিশ পাঠানো হয়। উখিয়া ও টেকনাফে এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন নিয়ে ৯২টি এনজিও কাজ করছে। প্রতিবেদনে এসব এনজিও’র কার্যক্রমের বিষয়েও জানানো হয় ব্যুরোকে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এনজিওগুলোর কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যুরোতে পাঠানো হয়েছে ৪ জানুয়ারি। প্রতিবেদনে সাতটি এনজিও’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিমপাড়ায় রোহিঙ্গাদের মাঝে কাজ করে এডুকেশনাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস ( ইডিএএস) নামে একটি এনজিও। কিন্তু ওই এনজিওটি সেবার আড়ালে সরকারবিরোধী প্রচারণা এবং জামায়াত-শিবিরের প্রচারণা ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করাসহ নানা অভিযোগে সেভ দ্য চিলড্রেন, মোয়াস (এমওএএস), এমডিএস, কোডাক (সিওডিইসি), এসআরপিবি, শেড’র কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন মনে করে এ নিয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে ব্যুরোতে।
প্রতিবেদন সূত্রে যায়, ৯২টি এনজিও ১৯২টি কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) মাধ্যমে তাদের কাজের সমন্বয় করার ব্যবস্থা থাকলেও খাদ্য, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও খাবার পানির ব্যাপারে যথাযথ জবাবদিহি করছে না কোনো এনজিও। অপরিকল্পিতভাবে অগভীর নলকূপ ও স্যানিটেশন স্থাপন হওয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে মারাত্মকভাবে। এ কারণে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবেরও শঙ্কা বেড়ে গেছে বহুগুণ।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ