বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সহায়তা দেবে কানাডা, নেদারল্যান্ডস

আপডেট: December 11, 2019, 1:14 am

সোনার দেশ ডেস্ক


রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গাম্বিয়াকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হবে। চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বাস্তবতায় জীবন বাঁচাতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সাত লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি-র পক্ষে আইসিজে-তে মামলা করে গাম্বিয়া।
মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি শুরুর আগের দিন সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাকারী দেশ গাম্বিয়াকে সহায়তার ঘোষণা দেয় কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। এতে বলা হয়, দুই দেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মিয়ানমারে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আইনি রায় পেতে বিষয়টি যৌক্তিকভাবেই আইসিজে-তে তুলে ধরা হয়েছে।
দুই দেশের বিবৃতিতে সাম্প্রতিক ইতিহাসের নৃশংসতম এ গণহত্যা নিয়ে সরব হওয়া এবং আইসিজে-তে বিষয়টি উত্থাপনের জন্য গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
গণহত্যা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী সব দেশের প্রতি এ মামলায় গাম্বিয়াকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস।
আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা বজায় রাখা এবং অপরাধীদের দায়মুক্তি রোধে গাম্বিয়ার এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর আগ্রহের কথাও জানিয়েছে দুই দেশ। কেননা, আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন অনুযায়ী, এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো গণহত্যা প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রোহিঙ্গা গণহত্যা পুরো বিশ্ব মানবতার জন্যই উদ্বেগজনক। ফলে আইসিজে-তে গাম্বিয়াকে সমর্থন করাকে নিজেদের জন্য বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচনা করে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস।
এদিকে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগ মুহূর্তে মিয়ানমারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-কে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বার্মিজ কর্তৃপক্ষ। দুই দিনের সফরে শনিবার নেপিদো পৌঁছান তিনি। শুনানিতে অংশ নিতে নেদারল্যান্ডসে যাত্রার আগে চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সু চি। বৈঠকে উভয়েই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আইসিজে-র শুনানিতে অং সান সু চি-র অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিং থুন সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এটি তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ এবং তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য একটি প্রচ্ছন্ন আশীর্বাদ।
বাংলাদেশ এই মামলার সরাসরি অংশগ্রহণকারী পক্ষ না হলেও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধি দল ওই শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক সরকার প্রধান সু চি-ও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহারই করেন না। বরং তাদের ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেয় তারা।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন