রোহিঙ্গা শিবিরে উগ্রবাদী প্রচারণা, ৮ এনজিও কর্মী গ্রেফতার

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৮, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও উগ্রবাদী প্রচার-প্রচারণার অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস’র ৯ নম্বর রোডের ৬৪৪ নং বাড়ির ৫ম তলায় স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ (এসকেবি) নামক এনজিও অফিসে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
গ্রেফতাররা হলেন- সাফ ওয়ানুর রহমান (৩৪), সুলতান মাহমুদ (২৫), নজরুল ইসলাম (৩৮), আবু তাহের (৩৬), ইলিয়াস মৃধা (৩০), আশরাফুল আলম (২৪), হাসনাইন (৩০) ও কামরুল (২৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, ৮টি সিপিইউ, ৮টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
কাউন্টার টেরোরিজমের দাবি, এনজিওটির কার্যক্রমের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘আনসার-আল-ইসলাম’এর সদস্যরাই সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিল। পাকিস্তান ভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এনজিওটির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বিঘেœ জঙ্গিবাদী কর্মকা- চালিয়ে আসছে।
কাউন্টার টেরোরিজম সূত্রে আরও জানা গেছে, স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ নামক এনজিও অফিসের কার্যক্রম আনসার-আল-ইসলামের মতাদর্শের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিও ভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের ছদ্মাবরণে এনজিওর সদস্যরা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে উগ্রবাদের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, গত আগস্ট মাসে এনজিও ব্যুরো জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যপরিচালনার অপরাধে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ওই এনজিওটির কর্মকা- নিষিদ্ধ করে।
এ এনজিওটি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ইসলামভিত্তিক সংস্থা থেকে অনুদান সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়াও দেশে-বিদেশে হিসাব বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এসকেবির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিবাদী কর্মকা- চালিয়ে আসছে।
আল খিদমত ফাউন্ডেশনের জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তইয়েবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। গ্রেফতাররা ও এসকেবি এনজিওটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থন পুষ্ট। তারা এসকেবি এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিভিন্ন কৌশলে সরকার বিরোধী প্রচারণা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ ও রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করে তারা দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় আনসার-আল-ইসলামের বিভিন্ন কর্মকা-ে অর্থায়ন করে।
তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে তাদের সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। সদস্য সংগ্রহ করে নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে সরকারকে অকার্যকর করা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ