রোহিঙ্গা সঙ্কট সারা বিশ্বের সঙ্কট || ভারতের সহযোগিতা খুবই প্রত্যাশিত

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৮, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা রোববার সময়োপযোগী ও বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশিত বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের সংকট নয়, এটি সারা বিশ্বের সংকট। প্রতিবেশী হিসেবে ভারত এ সংকট উত্তরণে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভারত সরকারের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শ্রিংলা বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সারা বিশ্বের অনেক কিছু করার আছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার যথার্থই বলেছেন যে, রোহিঙ্গা সমস্যাটি সারা বিশ্বের সমস্যা। যেখানেই মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটুক না কেন, তা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের বিচলিত হওয়ায় স্বাভাবিক। পীড়িত মানুষের জন্য এই অনুভবই মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রত্যয়ী ও কর্মউদ্যোগ তৈরি করে থাকে। এটিকে রাজনৈতিক কূটকৌশলের আশ্রয়ে দেখলে পীড়িত মানুষের দুর্ভোগ আরো বহুগুণে বেড়ে যায়।
সন্দেহ নেই, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ উদারতা ও মানবতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা বিশ্ব শান্তি-অন্বেষায় গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাহসে ভর করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের বাঙালিদের আছে। এ কারণেই তারা মৃত্যুকে বার বার পদানত করে জীবনের উল্লাসে মেতে উঠতে পারেÑ এ প্রাণ শক্তিরই অনিশেষ ফল্গুধারা। বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যই এর উত্তরাধিকার। ধর্ম-বর্ণ- নির্বিশেষে মানুষের বন্দনা পৃথিবীর আর কটা জাতিই বা করতে পেরেছে। পাহাড় সমান সমস্যা নিয়েও উচ্চকিত কণ্টে আশ্রয়ী রোহিঙ্গাদের ভরসার বাণী শোনাতে পারে বাঙালির নেতাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতৃত্বের সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই খুব সহজ সরলভাবে বলতে পেরেছেন ‘আমরা দুমুটো খেলে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভুক্ত থাকবে না। এ আবেগকে নিয়ে কটাক্ষ করা যায় বটে কিন্তু মানবতার বিজয়গাথা সৃষ্টি করা যায় না। মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য ওই আবেগটুকুই বিশ্বের সব সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বন্ধানের দাবি বিশ্বময় জারি রেখেছে। এটা নিয়ে কটাক্ষ চলে না, তামাসার কোনো সুযোগ নেই। আর যারা তা করতে চায়Ñ ভবিষ্যত তাদের জন্য কোনো শুভ সংবাদ বহণ করে না। পরিণতি হয় অতিব ভয়ঙ্কর।
প্রতিটি দেশেরই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাহিদা খুবই আকাক্সিক্ষত। রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যও তাই। এ দুটোকে একই সাথে চাওয়ার মধ্যে কোনো দুর্বলতা নেই। কিন্তু কূটনীতির মারপ্যাচে তা যেন প্রতিবেশি রাষ্ট্রের প্রতি অশোভন আচরণ কিংবা ছলচাতুরির কোনো সুযোগ যাতে না থাকে। এ ধরনের প্রচেষ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চির ধরাতে পারে। তখন আর অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির ধারা এগিয়ে নিতে ভীষণ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হতে হবে। যা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ভাবনার সাথে মোটেও খাপ খায় না। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে তার দেশের নিরাপত্তাকে যেমন গুরুত্ব দিচ্ছে তেমনি ভারতের নিরাপত্তাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সে পরীক্ষায় বাংলাদেশ নিজেকে প্রমাণ করেছে। কিন্তু ভারতের প্রমাণ করার এখনো বাকি রয়েছে। সেটা ভারতকেই প্রমাণ করতে হবে। এর অন্যথা হলে ভারত-বাংলাদেশ কোনো দেশই লাভবান হবে না। এই মুহূতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য খুবই কার্যকরি হবেÑ যা বাংলাদেশ সহসাই প্রত্যাশা করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ