লকডাউন শিথিল, সমালোচনা, করণীয়! করোনা প্রতিরোধ চলবে, অর্থনীতিও চলবে

আপডেট: May 7, 2020, 12:16 am

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে থেতিয়ে পড়া অর্থনীতি পুরুদ্ধারে উদ্যোগি হয়েছে সরকার। দীর্ঘ লকডাউনের ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বিপদের মধ্যে পড়েছে দেশের শ্রমজীবী মানুষ। কাজ নেই, খাদ্য নেইÑ এমন অবস্থা বেশিদিন চলতে পারে না। আর সরকারও খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দিয়ে দিনের পর দিন চালিয়ে যেতে পারে না। এর ফলেও দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারেÑ সেটা করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও সুরক্ষার সাথে সাথে জীবন-জীবিকার গতিও ধরে রাখতে হবে। আর এ সময়টি এখনই। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়Ñ অর্থনীতির এ সমস্যাটা এখন সারা বিশ্বের। করোনাভাইরাসে বিপর্যস্থ দেশগুলোও অর্থনীতির ধারায় ফিরে আসছে। লকডাউন শিখিল করে, শর্তারোপ করে অর্থনীতিতে গতি আনার প্রয়াস চালাচ্ছে।
বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১০ মে থেকে দোকানপাট-শপিংমল একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে শর্তসাপেক্ষ খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংক ও অফিস সমূহ সুরক্ষা মেনে খুলে দেয়া হচ্ছে। এটা নিয়ে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন পরিস্থিতিটা বিগড়ে যেতে পারে। কিন্তু লকডাউন চালিয়ে যাওয়াও তো একমাত্র উত্তরণের পথ হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। মানুষের জীবন খুবই বৈচিত্র্যময। মানুষকে টানা গৃহবন্দি করে রাখাও তো এক ধরনের মানসিক সঙ্কট সৃষ্টি করা। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে লকডাউনের বিরদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতেই যদি এই পরিস্থিতি হয়Ñ বাংলাদেশের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরো ব্যাপক হতে পারে। এটা ধর্ম, সংস্কৃতি,খাদ্য চাহিদাÑ সবকিছু মিলেই অস্বাভাবিক বিশৃঙ্খল কিছু ঘটে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। লকডাউন মেনে বোরো ফসল তো আর মাঠেই নষ্ট করা যায় না। ফসলের একটা বিহিত করতে হবে। এই ধান ঘরে তুলতে হবে। বোরোধান দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিবে। তাই এই ধান কেটে কৃষকের ঘরে তোলার আয়োজন চলছে। মাঠে শ্রমিকদের দল বেঁধেই কাজ করতে হয়। স্থানীয় ছাড়াও পরিযায়ী শ্রমিকরাও ধানকাটার কাজে যোগ দিয়েছে। তবে ওইসব শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে- পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এটাই এই সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।
দেশের মিল-কারখানাগুলো একে একে চালু হচ্ছে। মালিক ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এটা মালিক-শ্রমিক সবার স্বার্থেই নিশ্চিত করতে হবে। এটা অঙ্গীকারের ব্যাপার। সবার মধ্যে এই অঙ্গীকার ও দায়বোধ থাকতে হবে। তবেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেও দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই নতুন নতুন পথ তৈরি হবে। ভারতের রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্যÑ ‘করোনাভাইরাস সাখে নিয়েই আমাদের জীবন এগিয়ে নিতে হবে।’ তবে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। করোনা প্রতিরোধও চলবে, জীকন ও অর্থনীতিও চলবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ