লভ্যাংশ চায় রাজশাহী ও খুলনা, ঢাকার ভিন্ন মত

আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটায় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক ছিল খুলনা টাইটান্সের। এর আগে বিসিবি কার্যালয়ের বারান্দায় কথা বলছিলেন খুলনার ম্যানেজার নাফিস ইকবাল। জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার অনেক কথাই বললেন। মূল কথা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, ‘বিপিএল শেষ তিন বছরে যে উচ্চতায় পৌঁছেছে তা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে ভালোমানের ফ্র্যাঞ্চাইজি আসায়। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল যদি পরবর্তী চার বছরের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন নিয়ে কঠোর হতে পারে তাহলে বিপিএল নিজের অবস্থান ধরে রাখবে, নতুন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করবে।’
নোট করে অনেক সাজেশন নিয়ে বৈঠকে ঢুকেছিলেন নাফিস। গভর্নিং কাউন্সিলের দুই কর্মকর্তা মাহবুব আনাম ও ইসমাইল হায়দার মল্লিকের সামনে কতোটুকু বলতে পেরেছেন তা অজানা। তবে তার দলের মালিক কাজী ইনাম আহমেদ বৈঠক শেষে জানালেন আশার কথা,‘সামনের চার বছর কিভাবে সুন্দর করা যায় এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।’ খুলনা টাইটান্স থেকে দুটি সাজেশন দেওয়া হয়েছে,‘আমরা চাই এই টুর্নামেন্টটা সাসটেইনএবল হোক। পাশাপাশি কিভাবে কমার্শিয়াল দিক থেকে টুর্নামেন্টটাকে সাসটেইনএবল করা যায়। যাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা সাসটেইনএবল থাকতে পারে।’
দীর্ঘদিন ধরেই বিপিএল কর্তৃপক্ষের থেকে বিপিএলের লাভের অংশ চেয়ে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। আজও এ ইস্যুতে কথা বলেছে খুলনা টাইটান্স এবং রাজশাহী কিংস। দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সরাসরি লাভের অংশ দাবি করেছে। তবে সবার প্রথমে বৈঠকে বসা ঢাকা ডায়নামাইটসের লাভের অংশ নিয়ে মত ভিন্ন, ‘রেভেনিউ শেয়ারিংয়ের ব্যাপারে যেটা আইপিএল করে, আমি অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দেখেছি, পেপার পত্রিকায় পড়ি, অনেকেই চাচ্ছেন। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, ওখানে যেই ইনভেস্টমেন্ট এবং যেই আর্নিং তা অনেক অনেক বেশি। তাই রেভেনিউ শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে আইপিএলে যেটা করে উনারা সেটা করবেন কিনা আমি জানি না।’
রাজশাহী কর্তৃপক্ষ বলছেন, ‘রেভিনিউ শেয়ার বিভিন্নভাবে হতে পারে, ব্রডকাস্ট রাইটস, স্পন্সরশিপ রাইটস, টিকিট সহ অন্যান্য বিভিন্ন খাত। লাভের অংশ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বন্টনের কথা বলেছি। রেভিনিউ শেয়ার নিয়ে বিশ্বে বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে। আমরা সেগুলো অনুসরণ করতে পারি এবং সেই মোতাবেক পরিকল্পনা করতে পারি।’
খুলনা টাইটান্সও রেভিনিউ শেয়ারের পক্ষে। তবে তারা ফ্রাঞ্চাইজি ফি’র বিষয়টিও সামনে আনছে,‘আমরা যদি রেভিনিউ শেয়ার চাই তাহলে তাদের কথা হচ্ছে আমাদের ফ্র্যাঞ্চিইজি ফি আরও বেশি দিতে হবে। এটা যৌক্তিক। কেননা আমি যদি লভ্যাংশ নেই, তাহলে আমার ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি বাড়তেই পারে। সেটা নিয়ে কথা হয়েছে। কিভাবে আমরা ফি বাড়িয়ে নিয়ে রাইট ভ্যালু নিতে পারি সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সাজেস্ট করেছিলাম গ্রাউন্ডস রাইটস হোক, টিকেটিং হোক সবকিছু মিলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পেমেন্ট দিয়ে, যাতে বিসিবির আর্নিং না কমে এবং টোটাল প্রোপার্টির ভ্যালুটা বাড়ানো যায়। যাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সাস্টেইন করে।’
এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বিপিএল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে,‘বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি বিভিন্ন মতামত দিয়েছে, তাদের কথা আমরা শুনেছি। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিবে, তারা সবাই সব মেনে নিবে বলে জানিয়েছে।’- বলেছেন মাহবুব আনাম।
নতুন সার্কেলে বিপিএলের সঙ্গে চার বছরের জন্য চুক্তি করবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ১০-১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিপিএল কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা তা মেনে নিয়েছে। আজ রংপুর ও সিলেটের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। রেভিনিউ শেয়ারের পাশাপাশি পরবর্তী চার বছরের নিয়মকানুন নিয়েও আজ আলোচনা হয়েছে। তবে সপ্তম আসরে প্লেয়ার রিটেনশন বা প্লেয়ার অকশন নিয়ে চূড়ান্ত কোনো কথা হয়নি। তবে বিসিবি গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন, ‘এ বছরের আমাদের পরিকল্পনা হলো অকশন হবে, প্লেয়ার্স বাই ড্রাফট হবে, একদম নতুন করে। রিটেনশন প্রক্রিয়া ফাইনাল করিনি।’
রিটেনশন প্রক্রিয়া ফাইনাল না করলেও জানা গেছে একজন দেশি ও দুইজন বিদেশি ক্রিকেটার সরাসরি সাইন করার সুযোগ রাখছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি প্লেয়ার্স ড্রাফট হবে। ফলে প্রতিটি দল দেড় মাসের মতো সময় পাবে দল গোছানোর। শিগগিরই তাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হবে।-রাইজিংবিডি