লর্ডসে হারেনি কেউ, জিতেছে ক্রিকেট অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলকে

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

লর্ডসে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের ফাইনাল। মুখোমুখি ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেট বিশ্ব কী ম্যাচটাই না উপভোগ করল ক্রিকেটের তীর্থে। দুই দলের ৫০ ওভারের আসল লড়াই টাই। নিউজিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে ইংল্যান্ড করে ২৪১। সুপার ওভারে ইংল্যান্ড আগে ব্যাটিং করে তোলে ১৫ রান। নিউজিল্যান্ড অনেক লড়াই করেও ১৫ এর বেশি করতে পারে না। আবার টাই। কিন্তু আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সুপার ওভার টাই হলে হিসাব আসবে বাউন্ডারি সংখ্যা। সেখানে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের বাউন্ডারির ব্যবধান ৯টি। তাতেই শিরোপা উঠে যায় ইংল্যান্ডের হাতে। এমন ফাইনালই তো চাই। শেষ বলটি হওয়ার পর মনে হবে, কোনো দলই তো হারেনি! খেলাটাই আসল বিজয়ী। তাই তো ক্রিকেট বোদ্ধারা দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিকে ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা ম্যাচ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। বর্তমান-সাবেক অনেক ক্রিকেটারের টুইটার প্রতিক্রিয়াও সাক্ষ্য দিচ্ছে এই ম্যাচের পক্ষে। ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের পেসার ও সিনিয়র ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রড লিখেছেন, “সাদা বলের ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা ম্যাচ।” সাবেক অফ স্পিনার ও এখনকার ধারাভাষ্যকার গ্রায়েম সোয়ানের কাছে, “জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠতম ম্যাচ।” দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস বলছেন, “ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ।” ওয়েন মর্গ্যানের কথার সুরও অনেকটা এ রকমই। সেরার তুলনায় না গেলেও ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক এটিকে বললেন সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ম্যাচ। “আবেগ আমাকে যথেষ্টই ছুঁয়ে গেছে। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, তাই আবেগটা যতটা সম্ভব ধরে রাখছি। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, আমরা পেরে গেছি শেষ পর্যন্ত। অসাধারণ একটি দিন ছিল এটি। আপনারাও দেখেছেন, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ক্রিকেট ম্যাচ, যেখানে দুই দলকে আলাদা করার মতো কিছুই ছিল না।” “আমার মনে হয়, সূক্ষ্মতম ব্যবধান ছিল আজ এবং এটি যে কোনো দিকেই যেতে পারত। সৌভাগ্যবশত, আমাদের দিকে এসেছে।”
তবে সেরা কিছুর বাছাই যে কোনো ক্ষেত্রেই ডেকে আনে তর্ক। সেরা ক্রিকেট ম্যাচের তো সুনির্দিষ্ট মানদ- ঠিক করাও কঠিন। তারপরও উপলক্ষের বিশালত্ব, ক্রিকেটের মান, উত্তেজনা, নাটকীয়তা ও শেষের ফল, সব কিছু মিলিয়ে এত দিন ধরে ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা ম্যাচ অনেকের মতেই ছিল ২০ বছর আগের একটি ম্যাচ। সেটিও ছিল ইংল্যান্ডে এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ! ১৯৯৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এজবাস্টনে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। এবারের মতোই নাটকীয়তার অনেক ধাপ পেরিয়ে সেই ম্যাচ হয়েছিল টাই। সেবারও ম্যাচ শেষ হয়েছিল রান আউটে। এবং এবারের ফাইনালের মতোই টাই ম্যাচের ফলে উচ্ছ্বাসে ভেসেছিল এক দল, আরেক দলের ভেঙে গিয়েছিল হৃদয়! এক ম্যাচেই দুই দফায় টাই, অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা, দুই দলের ক্রিকেটারদের স্কিল, ফিটনেস ও মানসিক শক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা, একাত্ম হয়ে যাওয়া গ্যালারি, সব কিছু মিলিয়ে এই ফাইনাল অন্য সব ম্যাচকে পেছনে ফেলে দেয়ার কথা খুব সংশয় ছাড়াই। ২০ বছর আগের সেই সেমিফাইনাল নিয়ে যেমন কথা হয় এখনও, ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড এই ফাইনাল নিয়েও নিশ্চিতভাবেই চর্চা হবে বছরের পর বছর। আসবে আরও অনেক ম্যাচ। যুক্তি-তর্কের খ-ন বা আলোচনা চলবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে ৪ হাজার ১৯২ টি ম্যাচ দেখেছে ওয়ানডে ক্রিকেটে, এই ফাইনালের মতো কোনো ম্যাচ হয়নি, এটি নিশ্চিত। তাই এধরণের ম্যাচ ক্রিকেট বিশ্বকে উপহার দেয়ার জন্য চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও রানারআপ নিউজিল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা অভিনন্দন পেতেই পারেন। জয় হোক ক্রিকেটের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ