লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালানো যায় প্রতিকার কবে হবে?

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় এক সাংসদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬২০টি। এর মধ্যে মোটর সাইকেলের সংখ্যা ২২ লাখ ৬ হাজার ১৫৫টি।
আর ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে এমন চালকের সংখ্যা দেশে ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৬ জন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। এর অর্থ হল, দেশের প্রায় অর্ধেক যানবাহন এমন চালক দিয়ে চলছে, যদের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। মন্ত্রীর তথ্যেই জনমনে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে প্রশ্নও। মন্ত্রীর দেয়া তথ্যই যদি সঠিক হবে তা হলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট এআরআই এক গবেষণায় দেখিয়েছে, দেশে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি হচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে তা মোট দেশীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। তাই যদি হবেÑ তা হলে লাইসেন্সহীন চালকরা দিনের পর দিন গাড়ি চালাতে পারছে কীভাবে? সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বাংলাদেশে খুবই উদ্বেগজনক। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দেশের মানুষ সোচ্চার হলেও সমস্যাকে বারবারই উপেক্ষা করা হয়, জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়। ফলে সদস্যার আর সমাধান হয় না। সড়কে মৃত্যু মিছিল ঠিকই অব্যাহত আছে। সরকার প্রশাসনের অপারগতা, অসহায়ত্ব বারবার প্রকাশ পায়। দেশের মানুষ বোঝে যে, একটি জিম্মি অবস্থা বিরাজ করে। যারা জিম্মি করে তাদের বিরুদ্ধে পেরে ওঠা যাচ্ছে না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগও অধিক সময় সম্ভবপর হয়ে উঠে না। ।
২০১১ সালের ১৭ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দায়ী বলে মত ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু ওই পর্যন্তইÑ সমস্যার সমাধান আজও হয়নি। বিআরটিএ যে অবস্থায় ছিল, এখনো তেমনই।
সড়ক দুর্ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পরও ২/১টি ছাড়া কোনো মামলায় চালকের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় নি। কখনো মামলা তদন্তকালীন কিংবা বিচারাধীন অবস্থায় ভিকটিম বেঁচে থাকলে তার সাথে অথবা ভিকটিম মারা গেলে তার আত্মীয়স্বজনদের সাথে বাস মালিক সমিতি বা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন আপোষ করে নেয়। এই প্রক্রিয়াটা খুবই সহজ হয়ে গেছে এবং ততোধিক সহজ হয়ে গেছে দুর্ঘটনার মানসিকতা।
তবে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ঢালাওভাবে শুধু চালকদের এককভাবে দোষ দেয়া যাবে না। কারণ অনেক সময় পথচারীদের অসতর্ক ও অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাদের আইন অমান্য করার প্রবণতা নিলর্জ্জ ও বিপজ্জনক। সড়ক দুর্ঘটনারোধে আইনের পাশাপাশি চালকদের লাইসেন্স দেয়ার সময় যথাযথ এবং কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চালকদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ এবং কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা উচিত। সড়ক হোক নিরাপদ এ কথাটি মনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ