লাঞ্চে যে ভুল করি আমরা

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বেঁচে থাকার জন্য খেতে হয়। প্রতিদিন তিন বেলা খাই সুস্থ-সবল থাকার জন্য। বলা হয়ে থাকে ব্রেকফাস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে লাঞ্চ বা দুপুরের খাবারও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে এ সময় অনেক কর্মজীবী অফিসে লাঞ্চ করেন। কাজটি সহজ নয়। দিনের মাঝামাঝি সময়, যখন দেহ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন দেহ-মন পুনরুজ্জীবিত করতে লাঞ্চ করতেই হয়। অনেকে কাজের চাপে দুপুরের খাবার খেতে পারেন না। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনেকে দেরি করে খান। দেরি করে লাঞ্চ করলে হজমের সমস্যাসহ শারীরিক কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। এরকমই প্রতিদিনের লাঞ্চে বেশ কিছু ভুল করি আমরা। সচেতন না হলে শরীরের অনেক ক্ষতি হতে পারে।
প্রতিদিন বাইরে লাঞ্চ: অনেক কর্মজীবী প্রতিদিন বাইরে লাঞ্চ করেন। রেস্টুরেন্টের খাবার বেশিরভাগই অস্বাস্থ্যকর, যা শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। সুতরাং খুব বেকায়দায় না পড়লে বাইরে লাঞ্চ করা থেকে বিরত থাকুন। ঘরে তৈরি সাধারণ খাবারওিএর চেয়ে অনেক ভালো।
ডেস্কে লাঞ্চ করা: আশ্চর্যজনক এক তথ্য হলো, গবেষণায় দেখা গেছে, অফিসে কাজের টেবিলে টয়লেটের চেয়েও তিনগুণ বেশি জীবাণু থাকে! এরপরও নিশ্চয়ই যে টেবিলে কাজ করেন সেখানেই লাঞ্চ করবেন না আপনি। টেবিলে অসংখ্য জীবাণু থাকে যা খাবারের সাথে আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে। তাই কাজের টেবিলে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
খাওয়ার সময় মোবাইল: বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, আরো স্পষ্ট করে বললে স্মার্টফোন মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমনকি শারীরিক ক্ষতিরও কারণ হয়ে উঠছে। দিনের বেশিরভাগ সময়, এমনকি লাঞ্চ টাইমেও অনেককেই দেখা যায়, মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে। এটা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। মোবাইল ফোনের উপরিভাগে অসংখ্য জীবাণু থাকে, যা খাবারের সাথে আপনার পেটে যেতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্ক অতিমাত্রায় ব্যস্ত থাকায় খাবার ঠিক মতো হজমও হতে পারে না।
দেরিতে লাঞ্চ: আগেই বলেছি, অনেকে কাজের চাপে দেরিতে লাঞ্চ করেন। এটা লাঞ্চ না করার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। দেরি করে লাঞ্চ করলে আপনার শরীর নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে, এতে যখন-তখন দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন আপনি। বেশি দেরি করে খেলে গোগ্রাসে খাওয়ার ইচ্ছে জাগে। কারণ তখন পেটে ক্ষুধা থাকে। ফলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
প্লাস্টিক কনটেইনার: লাঞ্চ করার আগে প্লাস্টিক কনটেইনারসহ আপনার খাবার গরম করা খুব ক্ষতিকর। কারণ প্লাস্টিকে থাকা বিসফিনল নামক উপাদান শরীরের কোষে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই প্লাস্টিকের পাত্রে কোনো খাবার আনবেন না, রাখবেন না এবং সেগুলো গরম করবেন না।
লাঞ্চ না করা: নিজের খুব বড় ধরণের ক্ষতি করবেন আপনি, যদি লাঞ্চ না করেন। কারণ দিনের মধ্যবর্তী সময়ে, যখন সবচেয়ে বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার আপনার শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন, তখন আপনি খাচ্ছেন না। এটি আপনার ওজন না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দেবে। কারণ লাঞ্চ না করলে খাওয়ার ইচ্ছে আরো বেড়ে যাবে, তাই পরে বেশি খাবেন আপনি।