লাভজনক বেগুন চাষে ঝুঁকছে মহাদেবপুরের কৃষকরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


লাভজনক হওয়ায় মহাদেবপুরের মাঠে মাঠে এখন বেগুনের খেত। মাঠ থেকে বেগুন তুলছেন কৃষক-সোনার দেশ

অধিক লাভজনক হওয়ায় ধান ছেড়ে বেগুন চাষে ঝুকছে নওগাঁর মহাদেবপুরের কৃষকরা। বেগুন চাষ করে একদিকে কৃষকরা যেমন আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে দেশের সবজির চাহিদা পুরণে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মহাদেবপুর সদর, রাইগাঁ, চেরাগপুর ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে গত তিন বছর ধরে বোরো মওসুমে তাদের জমিতে বোরো ধান চাষ না করে বেগুন চাষ শুরু করেছেন। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রত্যেক কৃষকই নি¤্নে ৫ কাঠা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিঘা পর্যন্ত জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। এসব এলাকায় মাঠে মাঠে এখন কেবল বেগুনের খেত। কৃষকরা যশোহরের ইসলামপুরী এবং সাদা গুটি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। উপজেলার নাটশাল গ্রামের হানিফ ২৫ কাঠা জমি প্রতিবছর ১৫ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে গত তিন বছর ধরে বেগুন চাষ করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। ফটিকপুর গ্রামের নওশাদ আলী তার নিজস্ব এক বিঘা জমিতে করেছেন বেগুনের খেত। গোপালপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন তার ১০ কাঠা জমিতে এবং নাটশাল গ্রামের একরামুল হক ১৫ কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। এসব বেগুন চাষিরা জানিয়েছেন, বেগুন চাষে বোরো আবাদের চেয়ে পানি কম লাগে। সার ও শ্রমিক খরচও অনেক কম। তুলনামুলক ভাবে বাজারে মুল্য বেশী পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। ধান পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মন। প্রতি মন ৭শ টাকা হিসাবে উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে কৃষকের ঘরে লাভ তেমন কিছুই আসে না।
অপরদিকে কৃষকদের বিবরন অনুযায়ী এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ পড়ে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। সেখানে পুরো মওসুমে তা বেগুন পাচ্ছেন প্রায় দেড়শ মন। বর্তমান বাজার অনুযায়ী গড়ে প্রতি মন বেগুন পাইকারী পর্যায়ে বিক্রি করছেন ৭শ টাকা দরে। খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত লাভ করছেন। যার ফলে যে এলাকায় কোন দিন সবজি চাষ সম্ভব ছিল না সেখানকার কৃষকরা বেগুন চাষে এগিয়ে এসেছেন। তারা জানান, আমন ধানের আবাদ ঘরে তোলার পর বোরো চাষের চিন্তা না করে বেগুন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত শুরু করেন। বেগুন চাষের পর আবার তারা মনযোগ দেন আমন চাষের প্রতি। বেগুন চাষের পর আমন চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের দুটি লাভ হয়। এক্ষেত্রে জমিতে চাষ ও সার কম দিতে হয়। সেই কারণে সারের খরচও কমে যায় বলে সার্বিক ভাবে আমন চাষের উৎপাদন খরচও কম পড়ে। এতে কৃষকরা বেগুন চাষে অধিক লাভবান হচ্ছে। বেগুন বিক্রি করতে কৃষকদের কষ্ট করে হাটে বাজারে যেতে হয় না। পাইকারী কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেত থেকে কিনে নগদ টাকা দিয়ে যায়। এতেও তারা অনেক বেশী লাভবান হচ্ছেন। পাইকারী বেগুন ক্রেতারা জানিয়েছেন, এখানকার বেগুন কিনে নিয়ে তারা নওগাঁ জেলা পর্যায়ের বাজার ছাড়াও বগুড়া, রাজশাহী, সিলেট, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম মফিদুল ইসলাম জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৪২০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে। গত বছর বেগুন চাষের জমির পরিমান ছিল সাড়ে ৩শ হেক্টর। তিনি আরো বলেন, অবশ্যই বোরো চাষের চেয়ে বেগুন চাষ অধিক লাভজনক হিসেবে কৃষকদের কাছে পরিলক্ষিত হয়েছে। বেগুন চাষে পানি কম লাগে। সেচ খরচ একেবারে নেই বললেই চলে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম অন্যদিকে ভালো বাজার মূল্য কৃষকদের বেগুন চাষে উৎসাহিত করে তুলছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।