লাল পিঁপড়া

আপডেট: মে ১১, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ফারদিন শামস তিমির


এক বনে থাকতো এক লাল পিঁপড়া। তার কোনো বন্ধু ছিলো না। একাকী তার জীবন কাটতো। একদিন সে খাবার খুঁজতে বনের ভিতর খুব দূরে গেল এবং তার ওজনের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি পরিমাণের এক খাবারের টুকরা পেল। সেই খাবারের টুকরা নিয়ে সে বাড়ির দিকে ফিরছিলো। পথে এক বিষপিঁপড়ার সাথে তার দেখা হলো। সে এবার মোটা কণ্ঠে বললো, তুই আমাকে এই খাবার দিয়ে দে ও এই বলে সে জোর করে খাবারের টুকরাটি কেড়ে নিল ও বাড়ি চলে গেল। ফলে লাল পিঁপড়া মনের দুঃখে কাঁদতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর এক মৌমাছি দেখল সে কাঁদছে। তাই সে তার কাছে গেল ও বলল, আরে ও ভাই পিঁপড়া! কাঁদছ কেন? পিঁপড়া তাকে সব কথা খুলে বলল। মৌমাছি বলল, এতো ভারি অন্যায়। বহুত নাইনসাফি! কিন্তু আমি তো কিছু করতে পারব না। সো সরি! তারপর এক ফড়িং দেখল সে কাঁদছে। সে তার কাছে গেল আর বলল, কাঁদছ কেন? পিঁপড়া সবকিছু খুলে বলল। কিন্তু ফড়িংও তাকে শান্তনা দিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর এক প্রজাপতি এসে তাকে সাহায্য করবে এ কথা বলল, সে বিষ পিঁপড়ার বাড়ি চিনে। সে বিষ পিঁপড়ার বাড়ি গিয়ে বলল, তুমি লাল পিঁপড়ার খাবার কেড়েছ?
বিষপিঁপড়া:-হ্যাঁ , তো।
প্রজাপতি: দিয়ে দাও।
বিষপিঁপড়া : আমি ওটা খেয়ে ফেলেছি যা-ঞবংঃু !
প্রজাপতি : কী ?
বিষপিঁপড়া : হ্যাঁ
প্রজাপতি : জানো, এটি একটা অপরাধ। আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর বোল্লা বাবুকে ডাকব।
এ কথা শুনে বিষপিঁপড়া হা : হা : হা: হেসে বলল, ডাক! ডাক!
প্রজাপতি সত্যি সত্যি ডাকলো, বোল্লা এসে বলল, তুমি খাবার চুরি করেছ?
বিষপিঁপড়া : হ্যাঁ , তো
বোল্লা : তো কী ? চলো থানায়। এই বলে তাকে গ্রেফতার করলো। কিন্তু পরক্ষণেই বিষ পিঁপড়া তার নিজ হাতে বানানো একটা মাটির মধুচাক বোল্লার থাকার জন্য বোল্লাকে উপহার দিয়ে মুক্তি পায়।
কিন্তু তা দেখে প্রজাপতি থেমে থাকেনি। সে হাই কমিশনার ভিমরুলকে বোল্লা ও পিঁপড়ার কথা বলল। সব কথা শুনে কমিশনার বোল্লাকে ২ মাস সাসপেন্ড করল ও বিষ পিঁপড়াকে গ্রেফতার করলো। আর লাল পিঁপড়াকে ১ মাসের খাবার দিল। তাতে লাল পিঁপড়া খুব খুশি হল। আর প্রজাপতি তার বন্ধু হল। সে বন্ধু পেল, খাদ্য পেল, সুখ পেল তাই সে খুশিতে এবার জীবনযাপন করতে লাগল। ( লেখক পরিচিতি : ৬ষ্ঠ, শ্রেণি, ঘ শাখা,রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহী।