লিটনের অবস্থান নিয়ে স্বস্থিতে হাই কমান্ড

আপডেট: জুন ৫, ২০১৮, ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


একমাত্র রাজশাহীতে দলীয় প্রার্থী, প্রতিপক্ষ ও মাঠের চিত্র বিবেচনায় স্বস্তিতে আছে সরকারি দল। রাজশাহীর এই অবস্থা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ২৬ জুন গাজীপুর সিটিতে ভোট। রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে ভোট ৩০ জুলাই। ঢাকার বিভিন্ন মিডিয়া এবং আওয়মীলীগ সুত্র গুলো জানাচ্ছে, ২০১৩ সালের ভোটে চার সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। নিজেরা জয়ী হয়ে জনপ্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আসন্ন চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী মাঠে নেমে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছে আওয়ামী লীগ। বরিশালে জনপ্রিয় প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেটে অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকলেও জয় নিয়ে আছে সংশয়। গাজীপুরে দলীয় কোন্দল পুরোপুরি নিরসন হবে কি না, তা এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এবার বেশ আগে থেকে মাঠে রয়েছেন তিনি। তার পাক্ষে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন।
গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর বৈঠকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে রাজশাহীর সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে খায়রুজ্জামান লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। অনেকেই প্রথম অবস্থায় নির্বাচন করার কথা বলে। পরে লাভ হবে না দেখে লিটনের পক্ষেই মাঠে নেমেছেন তারা। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানককে রাজশাহীর প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে ২০০৮ সালে মেয়র হয়ে বিপুল উন্নয়ন করেও ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেন নি খায়রুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালে বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র হয়ে পুলিশ কনেস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলাসহ বেশ কিছু মামলায় জড়িয়ে যান। এসব কারনে তিনি বেশ কিছুদিন আত্ম গোপনে ছিলেন। ছিলেন কারাগারে। তার পরে যে সময় তিনি পেয়েছেন তা কাজে লাগাতে পারেন নি। সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে তিনি চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছেন। তার সময়ে সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কাজ গুলোও ছিল ঢিমেতালে। বুলবুলের কাছে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল তিনি বর্ধিত কর বাতিল করবেন। তিনি শেষ দিকে বেশ কিছুদিন চেয়ারে বসে ছিলেন তিনি কর প্রত্যাহার করেন নি। বিএনপি সমর্থক ভোটারদের বড় একটি অংশ তার প্রতি বিরূপ। তারা এবার লিটনকে সমর্থন করছেন।
২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোট গ্রহণ হবে। আর রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে ভোট আগামী ৩০ জুলাই। ২০১৩ সালের ভোটে এই চার সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, এবার নিজেরা জয়ী হয়ে জনপ্রিয়তা দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, খুলনা সিটির ভোটে তালুকদার আবদুল খালেকের জয়ের পর দলীয় নেতাদের ধারণা ছিল, অন্য সিটিতে এর প্রভাবে জয় এসে যাবে। পরিস্থিতি এতটা সহজ ঠেকছে না।
সবার প্রত্যাশা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে, ভোটও সুষ্ঠু হবে। এই দুটি নিশ্চিত হলে খুলনার মতোই মানুষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়ী করবে। এসব সিটিতে অতীতে বিএনপির প্রার্থীরা মেয়র হয়ে দলীয় রাজনীতি করেছেন। আর আওয়ামী লীগের মেয়ররা অতীতে উন্নয়ন করেছেন।
লিটনের প্রচারণা এবং নির্বাচনে তার বিজয়ের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দিন বলেন, রাজশাহীকে ক্লিন সিটি এবং গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০১৩ সালে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরে রাজশাহীতে সব উন্নয়ন কাজ থেমে যায়। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন একজন ডায়নামিক মানুষ। তার সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক ভালো। রাজশাহীকে আগের মতো উন্নয়ন ধারায় ফিরিয়ে আনতে তার বিজয় একান্ত জরুরী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ