শপথ নিলেন চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ শপথ পাঠ করাচ্ছেন তিন মন্ত্রীকে-সংগৃহীত

সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে তিনজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ন চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, লক্ষ্মীপুরের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী।
এদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে মন্ত্রী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; কাজী কেরামত আলীকে করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
বিজয় বাংলা কিবোর্ডের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার (৬৮) যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাকে মন্ত্রিসভায় ঢুকলেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে। বাকিরা কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা পরে স্পষ্ট হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান। সরকার প্রধান শেখ হাসিনাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং নতুন মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে ছিলেন।
মন্ত্রিসভার নতুন এই সদস্যদের বঙ্গভবনে নিয়ে যেতে বিকালে সচিবালয় থেকে পাঠানো হয় চারটি গাড়ি। শপথের জন্য বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে তারা সবাই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান।
শপথ পড়াতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে দরবার হলে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তিন মন্ত্রীর শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। পরে হয় প্রতিমন্ত্রীর শপথ।
শপথ নেয়ার পর তিন মন্ত্রী টেবিলে বসে শপথবাক্যে স্বাক্ষর করবেন। প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়ে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
এই চারজনকে নিয়ে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী।
এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।
৭২ বছর বয়সী নারায়ন চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
নতুন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
৬৮ বছর বয়সী জব্বার ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন। পরের বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যুক্ত করে নেয়া হয়।
মন্ত্রিসভার আরেক নতুন মুখ শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ। ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপাতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। তার ভাই অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।
৬৩ বছর বয়সী কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সোমবার ওই চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয় শপথের জন্য। তারপরই গণমাধ্যমে তাদের নাম আসতে থাকে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “নাম যেভাবে আসছে, ঠিক আছে।
“তিনজন নতুন এবং একজন পুরনো। পুরনো থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী হবেন। আর দুজন নতুন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী, চারজন।”
মন্ত্রিসভায় আরও রদবদলের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “না না না, এই চারজনই শপথ নেবেন।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ