শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় আরো এক লাখ গাছের চারা রোপণ

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৯, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


গাছ হাতে সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা-সোনার দেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক দিনের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বড়াইগ্রাম ও ঈশ্বরদী উপজেলায় আরো এক লাখ গাছের চারা রোপণ করেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চারা রোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নাটোরের বড়াইগ্রামে ৫৫ হাজার এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ৪৫ হাজার গাছ রোপন করা হয়।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি সক্ষম। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ের ঘূর্ণিঝড়গুলোতে জীবনহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। পূর্বাপর অভিজ্ঞতা নিয়ে সরকার ভবিষ্যত দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রতিনিয়ত কাজ করছে। নিজেদের টিফিনের বাঁচানো পয়সায় এই খুদে শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে এখন গাছের মালিক। ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের মানুষ এবং তাঁর সৃজনশীল মানুষ গড়ার আন্দোলন ‘অলোর মিছিল’এর উদ্যোক্তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক র্দুাগজনিত ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের একটি বাংলাদেশ। এ ক্ষতি মোকাবিলায় কারো মুখাপেক্ষী হওয়াটা সমীচীন না। তাই আমাদেরকেই নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত করতে পারি।
সেন্ট যোসেফ্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে চত্ত্বরে আলোর মিছিলে উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুস, সামাজিক বনায়ন বগুড়া অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. জগলুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ, কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ, বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, সেচ্চাসেবী সংগঠন ‘আলোর মিছিল’ এর প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক জুবায়ের আল মাহমুদ প্রমুখ।
উদ্যেমী তরুণ জুবায়ের আল মাহমুদ ২০১৫ সালে ‘এক দিনের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে গাছের চারা রোপণ’ আন্দোলন শুরু করেন। গত চার বছরে এই আন্দোলনে সারা দেশের ৭৫০টি স্কুলের লাখো শিক্ষার্থী অংশ করেছে। নাটোরের বড়াইগ্রাম, রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট, পাবনার ঈশ্বরদী, সিলেটের বিয়ানীবাজার এবং খুলনার দিঘলীয়া উপজেলার শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ এই পাঁচ বছরে সাড়ে চার লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জুবায়ের আল মাহমুদ সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির আয়োজন করতে আহ্বান জানান। জুবায়ের বলেন, অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য শিক্ষার্থীদের এই লাখো গাছ রোপণের ঘটনা বিশ্বে বিরল। তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীকে নিয়ে যদি বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাহলে খুব সহজে বাংলাদেশ সবুজ হবে। এই আন্দোলন যদি জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে খুব সহজে সারা পৃথিবী বিশাল এক অরণ্যে পরিণত হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ