শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে যুক্ত হচ্ছে ডট বিডি, ডট বাংলা

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের ৩০ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রীয় ডোমেইন (টপ লেভেল কান্ট্রি ডোমেইন) ডট বিডি ও ডট বাংলা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত জুলাই মাসে দুটি পত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। যদিও ২০১৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে দেশের প্রায় ৩০ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয় এবং সেইমতে ওয়েবসাইট তৈরিও হয়। সে সময় ডট ইডিইউ ডট বিডি ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছিল।
সম্প্রতি ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন ব্যবহারের জন্য দেশের সব জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে নির্দেশনা পাঠায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড। এর আগে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন ব্যবহারের নির্দেশনা পাঠায়।
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন ব্যবহার করা উচিত। তাহলে ওয়েব জগতেও বাংলাদেশের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়বে।’
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইটে যুক্ত করার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা প্রায় সোয়া লাখ প্রতিষ্ঠানের সাইটে ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিটিসিএল কাজটি সরাসরি করছে।
প্রসঙ্গত, ডট বিডি ও ডট বাংলা রাষ্ট্রীয় ডোমেইন। এই ডোমেইন সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় পতাকা বহন করে। ওয়েব দুনিয়ার কোনও সাইটে সংশ্লিষ্ট দেশের ডোমেইন জুড়ে দিলে ওই ওয়েবসাইটগুলো দেশের পতাকা বহন করে। ফলে ভিজিটররা সহজেই দেশটি চিনতে পারে। অন্যদিকে ডট বাংলা হলো দেশের টপ লেভেল কান্ট্রি ডোমেইন। এই ডোমেইন ব্যবহার করলে সাইটের নাম বাংলায় লিখতে হয়। বাংলায় লিখলে সাইটটি বাংলায় দেখায়।
জানা যায়, ২০১৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির আদেশ দেয়। নির্দেশনা মতে ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট তৈরি করলেও তা মানোত্তীর্ণ ছিল না। বেশির ভাগ সাইট ডায়নামিক ছিল না। দুর্বলতা, নিরাপত্তা সংকট ছিল সাইটগুলোর মূল সমস্যা। কনটেন্টও ভালো ছিল না। এবার এসব দূর করে ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে বলা হয়েছে। আর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইট রয়েছে সেসবে ডট বাংলা ও ডট বিডি যুক্ত করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এরই মধ্যে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইটে ডট বিডি ব্যবহারের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে সেগুলোও নবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিটিসিএল’র ডোমেইন শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপব শহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নতুন নির্দেশনার পর এ বিষয়ে (ডট বিডি ও ডট বাংলা ডোমেইন) নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইটে এগুলো যুক্ত করতেই হবে।
তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে উদ্বোধন হয় ডট বিডি ডোমেইনের। এখন পর্যন্ত্র ৪৭ হাজার ৩৭৫টি ডোমেইন নিবন্ধন হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন ডট বাংলা ডোমেইন। এখন পর্যন্ত এই ডোমেইন নিবন্ধনের সংখ্যা ৫৫৮টি। তিনি আরও জানান, ১৯৯৯ সালের পরে অনেক ডোমেইনের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান সেসব নবায়ন না করায় সিস্টেম থেকে ডাটা মুছে যাওয়ায় এই এ সংখ্যার পরিমাণ কম মনে হচ্ছে। তবে সম্প্রতি ডট বাংলা ও ডট বিডি ডোমেইনের নিবন্ধনের হার বেড়েছে বলে জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন