শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গরুর হাট উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ থাকা বাঞ্ছনীয়

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৯, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ আগে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ অর্র্জনের জন্য গরুর হাট বসানো আগে। প্রথমটি অগ্রাহ্য হলে শিক্ষার আর প্রয়োজন কী! শিক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্ভ্রমই যদি রক্ষা করা না হয়- তা হলে শিক্ষা নিয়ে এতো হইচই করার কী আছে? ব্যাপারটি তেমনই হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বরে আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গরুর হাট বসানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা একদিকে শেণিকক্ষে পড়ছে কিংবা পরীক্ষা দিচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরু হাম্বা আওয়াজ, ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোলাহল। এমন শিক্ষার পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শিক্ষক কিংবা স্থানীয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সামনে এ কোন দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন?
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজ মাঠে গরুর হাট বসেছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে আর কলেজ মাঠে গরুর হাটের ক্রেতা-বিক্রেতার তুমুল কোলাহল। একই পরিস্থিতি দুর্গাপুর উপজেলার একটি স্কুলের। বাজুখালি সরকারি প্রাথমিক স্কুলমাঠ দখল করে বসানো হয়েছে পশুর হাট। অথচ স্কুলে একই সাথে ক্লাসও চলছে। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত পশুর হাট বন্ধ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার। এছাড়া হাট বসানোর কারণে স্কুলটির প্রাচির ভেঙে যেতে বসেছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ওই হাট বসিয়েছে স্খরি পরিচলন্ কমিটি, সাথে আছে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব। চেয়ারম্যানের সোজাসাপ্টা কথাÑ ‘বিদ্যালয়ে হাট বসিয়েছি, তাতে কি হয়েছে? এটা আমাদের ব্যাপার। আমরা হাটের একটা টাকা পকেটে নিব না। সব টাকা মসজিদের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে।’ বিদ্যালয়ের পরিবেশ সম্পর্কে বলেন, ‘শিশুদের পড়াশনা এমনিই হয়। সপ্তাহে এক দুইদিন না হলে বিদ্যারসাগর হতে পারবে না- এমনতো কথা লেখা নেই।’ জনপ্রতিনিধি শিক্ষা নিয়ে যদি এমন কটাক্ষ করে কথা বলেন তা হলে শিক্ষা কোন খাদে পড়ে আছে তা সহজেই বোঝা যায়। আর স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।
এটা শিক্ষার করুণ পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি। শিক্ষা এখানে খুবই গৌন। গরুর হাট বসিয়ে টাকা অর্জনই মুখ্য। কিন্তু এ টাকা কার জন্য? সরকারি স্কুল কলেজের উন্নয়ন সরকারির দেখভালের বিষয়। এবং সরকার সেটা করছেও। তাহলে আগ বাড়িয়ে কাজ দেখাচ্ছে এরা কারা? আর যাহোক এরা যে শিক্ষার সমর্খক নয় তাদের কাজের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিৎ, এই নৈরাজ্য বন্ধ হওয়া উচিৎ। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরুর হাট বসানোর সুযোগ থাকা মোটেও সমীচীন নয়। যারা এটি করেন তারা অনৈতিক কাজটিই করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ