বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন শিক্ষক কেন আইন পরিপন্থি কাজ করেন?

আপডেট: February 15, 2020, 12:58 am

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে থুথু খাওয়ালেন সহকারী শিক্ষক মো. মোশাররফ তালুকদার।
১৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ব্যস্ত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সহকারী শিক্ষক মোশাররফ তালুকদার চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেন। এ সময় রুটিন অনুযায়ী বাড়ির কাজ জমা না দেয়ায় চতুর্থ শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীকে নিজের থুথু খাওয়ান তিনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক শিশুদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। আইনের পরিপন্থী হলেও কিছু কিছু শিক্ষক কোমলমতি শিশুদের উপর শাসনের নামে নিপীড়নের কাজ চালিয়েই যাচ্ছেন। ৯ ফেব্রুয়ারি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী উচ্চ বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উপর নিপীড়ন চালিয়েছেন খোদ ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ওইদিন প্রধান শিক্ষক স্কুলের অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে অসমান করে কেটে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করে। যদিও স্থানীয় প্রশাসন ওই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং একইসাথে কারণ দর্শাতে বলেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোনোরূপ শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করা যাবে নাÑ এটা প্রায় একদশক ধরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তারপরও কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না? এটা আইন প্রয়োগের শিথিলতা না নজরদারির অভাব? আর শিক্ষকদের নির্যাতন করার মানসিকতা থাকবেই বা কেন! তারা বিশ্বের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার কোনোই খবর রাখেন না? তা হলে তাদের শিক্ষকতা পেশায় থাকা কেন?
২০১১-এর ১৩ জানুয়ারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়ার নামে নির্যাতনকে সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রণীত গাইডলাইন চূড়ান্ত করে এর আলোকে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিশন বা কমিটির একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ সব কিছুই হয়েছে। প্রণীত হয়েছে শিশু আইন ২০১৩। আেিনও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান আছে। তদুপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনে ঘটনা ঘটছেই।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ বিশ্বের সকল শিশুদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রসমূহের সরকারগুলোকে বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে শিশুদের প্রতি তাদের দেয়া অঙ্গীকারের কথা। আন্তর্জাতিক মানবিক অধিকার সম্পর্কিত চুক্তিসমূহের মধ্যে বিশ্ব্ েসবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশ এই সনদে স্বাক্ষর করেছে ও অনুমোদন দিয়েছে যা নজিরবিহীন। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম দেশ।
শিশু সনদের ৫৪টি অনুচ্ছেদ এবং ঐচ্ছিক চুক্তিগুলিতে বিশ্বের সব শিশুর নাগরিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সামগ্রিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
শিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিবন্ধী সমাজেরই চিত্র। নির্যাতনকারীরা কোনো না কোনোভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই সমাজে নির্যাতন উৎসাহিত হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই সুস্থ সমাজের চিত্র হতে পারে না। শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলেই কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনে ঘটনা বন্ধ হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ