শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে স্কুলছাত্রীর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত এই নির্মমতা বন্ধ হবে কবে?

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

মাদারীপুরে শ্রেণিকক্ষে হাসি দেয়ার কারণে শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে। ওই ছাত্রী সম্পা শহরের পানিছত্র এলাকার সিরাজুল হক হাওলাদারের মেয়ে। সে দরগাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। অবশ্য অভিযুক্ত শিক্ষিকা দিল আফরোজ রতœাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা শিক্ষা অফিস।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মাঝেমধ্যেই এ ধরনের নির্মমতার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রথমত দেশের আইনে কোনো শিশুর উপর নির্যাতন সমর্থন করে না। দ্বিতীয়ত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে কোনো অবস্থাতেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা যাবে নাÑ তদুপরি শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছেই।
গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা এখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমন অনেক শিক্ষক আছেন যাঁরা এখনো মনে করেন যে, দুরন্ত ও দুষ্ট (!) শিক্ষার্থীকে মারপিট, ভয়-ভীতি না দেখালে সে সঠিকভাবে শিক্ষা অর্জন করবে না। অনেক অভিভাবকও তেমনটি মনে করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা এক ধরনের দায়মুক্তি পেয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা তার অধিকার মনে করে। অভিভাবকরাও শিশুর সামনে তাদের কৃতকর্মকে শিশুর আচরণের সাথে মিলিয়ে দেখতে চান না। দেখলে তারা নিশ্চয় উপলব্ধি করতেন যে, শিশু যে আচরণ করছে- যা তাদের কাছে অশোভন মনে হচ্ছে তা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে তাদের কাছ থেকে কিংবা প্রতিবেশির কাছ থেকেই সে শিখেছে। কিন্তু শিক্ষক ও অভিভাবকদের এ ধারণা জ্ঞানভিত্কি ও তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে একদম চলে না। বরং অভিজ্ঞতা বলে যে, স্কুলে নির্যাতনের ফলে শিশু স্কুলে পাঠ নিতে অনীহা দেখায়, , স্কুল ফাঁকিতে অভ্যস্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে পাঠ থেকে ঝরে পড়ে এবং পরিণতিতে বখেটে হওয়ার আশংকা বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যদি জ্ঞান আহরণ, সম্পর্ক উন্নয়ন ও আনন্দের স্থানে পরিণত করা যায় সে ক্ষেত্রে শিশুর মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। আজকের উন্নত দেশগুলো তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক যখন মানুষ গড়ার কারিগর তখন শিশুর প্রতি তার আচরণ অভিভাবকের হবে, বন্ধুর মতো হবে। তার জন্য কোন শিশু ঝরে পড়লে, ভীত বা মনসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, শাস্তির ভয়ে স্কুল ফাঁকি দিলে সেই শিক্ষার্থীর দায়ও তিনি এড়াতে পারেন না। তিনি তখন আর মানুষ গড়ার কারিগরের পর্যায়ে থাকেন কী? তাছাড়া দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করে শিশু নির্যাতনকারী বা নির্যাতন সমর্থনকারী শিক্ষক কী নিজের প্রতিই সুবিচার করেন। শিক্ষক যদি দেশের আইন লঙঘনের মত ঘটনা ঘটান তা হলে তিনি কী আর শিশুর কাছে আদর্শ হিসেবে নিজেকে গ্রহণযোগ্য বলে দাবি করতে পারবেন? পারেন না, নৈতিকভাবেই তা সমর্থনযোগ্য নয়। কেননা তিনি দেশের প্রচলিত আইনের বরখেলাপ করে অপরাধ করছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপর নির্মম নির্যতনের অবসান হচ্ছে না কেন? শিক্ষকগণ কি এ দেশের প্রচলিত আইন এবং এদতসংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কিছুই জানেন না কিংবা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কিছুই হয় নাÑ তাই নির্যাতনও বন্ধ হচ্ছে না? বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। আইনি ব্যবস্থা যখন জনসম্মুখে আসবে তখন জনসাধারণ যেমন সচেতন হবে অন্যদিকে শিক্ষকগণ সতর্ক হতে পারবেন। সর্বোপরি আইনের প্রয়োগ যথাযথ হতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ