শিবগঞ্জে ঘোড়াদহ বিলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ ৬ হাজার বিঘা জমির ধান পানির নিচে

আপডেট: মে ৯, ২০১৮, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম,শিবগঞ্জ


পানির নিচে তলিয়ে গেছে ধানের খেত-সোনার দেশ

শিবগঞ্জের ঘোড়াদহ বিলের ধুমানীনগরে পানি নিষ্কাশনের একটি মাত্র নালা (ডাড়া) কৃত্রিম উপায়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঘোড়াদহ বিল থেকে কানসাট বাজার সংলগ্ন পাগলা নদী পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০ মিটার প্রস্থ শত বছরের পুরানো ধুমানীনগর নালাটির তলদেশে প্রভাবশালীরা মাটি দিয়ে উঁচু করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করায় ঘোড়াদহ বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে রঘুনাথপুর, শিকারপুরসহ ৫-৬ মৌজায় অবস্থিত শ্যামপুর, দাইপুকুরিয়া, মোবারকপুর, শাহবাজপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের শত শত কৃষকের প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমির ধান ৩ ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ডুবে যাওয়া এসব জমির শতকরা ষাট ভাগ ধান কাঁচা থাকায় কৃষকরা এসব জমির ধান কাটতে পারছে না। সামান্য কিছুর জমির ধান আধা পাকা হয়েছে সেগুলো কৃষকরা পানিতে নেমে কোনো ভাবে সেগুলো কাটছে।
মোবারকপুর টিকরির গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, এ বিলে আমার ১২ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। প্রতিবছরই এ জমির ধান দিয়ে সারা বছরের খাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের খরচ করে থাকি। প্রায় ৩ যুগ পর এ বছর বৈশাখ মাসে ভারী বর্ষণের ফলে ধানগুলো পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ধান কাঁচা থাকায় না পারছি কেটে তুলতে না পারছি ধানের জমি ছেড়ে যেতে। তিনি আরো জানান, যদি ধুমানীনগর নালাটি পরিস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে অনেক কৃষক জমির ধান ঘরে তুলতে পারবে।
উমরপুর গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলামের ৮ বিঘা, জাব্বারের ৫বিঘা, জেমের ৩ বিঘাসহ উপস্থিত প্রায় ৩০/৪০ কৃষক সবাই নিজের হতাশার কথা জানান। এসময় কৃষকরা জানান, বিলের পার্শ্ববর্তী গঙ্গারামপুর, রঘুনাথপুরসহ কয়েকটি গ্রামের প্রভাবশালী শাহিন, সেকেন্দর, মুন্টু, সহিদুল, শামিনসহ আরো অনেকেই নালার তলদেশে ধানের আবাদ করে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দিয়েছে। তারা আরো জানান, নালার দুইপাশের জমিওয়ালারা নিজ নিজ জমির সংলগ্ন নালার জমি জোরপূর্বক দখল করে আবাদ করে আসছে। ফলে নালাটি দিন দিন সরু হয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোহিদুর রহমান মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিকেল ৫টার কথা হবে বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামালসহ অনেকের দাবি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আমিনুজ্জামান বলেন, হঠাৎ করে ভারী বর্ষণ হওয়ায় ওই বিলের প্রায় ৩০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। তবে ওই বিলের ধান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেটে নেয়াই উত্তম।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ আসনের সাংসদ গোলাম রাব্বানী বলেন, কৃষকবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খোদ আমার এলাাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা মেনে নেয়া যাবে না। আমি জরুরি ভিত্তিতে নালার পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবো। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ কৃষকদের ক্ষতি করতে না পারে তার ব্যবস্থাও নিব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ