শিবগঞ্জে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করলেন ইউএনও

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে সাতটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়ম পেয়ে তিনি নিজেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর এসব স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম উপজেলার মনাকষা, দূর্লভপুর ও কানসাট ইউনিয়নের সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়গুলি হলো মনাকষার মিরাগোপালপুর ও সাতভাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কানসাটের শিকারপুর, পারকানসাট ও মোহনবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দূলর্ভপুরের কালুপুর ও বাররশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের না পাওয়া গেলেও প্রধান শিক্ষকের রুমে হাড়ি-পাতিল ও শিশুদের দোলনা দেখতে পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও শিক্ষকদের অনিয়মের কারণ সম্পর্কে শিক্ষকরা সদুত্তর দিতে পারেন নি। কানসাট শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি ঠিকই রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, পারকানসাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সংশ্লিষ্ট শ্রেণিকক্ষে না গিয়ে অফিসে গল্প করায় শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী আম বাগানে খেলাধূলায় ব্যস্ত ছিল। শিক্ষার্র্থীদের হাজিরা খাতায় দীর্ঘদিন অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও তাদের বাদ দেয়া হয়নি।
এদিকে, মোহনবাগ সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় প্রতিনিয়ত ফ্লুইড ব্যবহার ও কালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন না হওয়ার সত্যতা মিলেছে। এমনকি প্রধান শিক্ষকের কথাবার্তাও অসংলগ্ন ছিল।
এছাড়া, বাররশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ে সকাল ১০ টার সময় কোনো ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের হাজিরা নেয়া হয় নি।
অন্যদিকে, সাতভাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীরা যাতে পালাতে না পারে তার অজুহাতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঠি হাতে বারান্দায় বসে থাকতে দেখা গেছে। চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন অনুপস্থিত, সহকারী শিক্ষক সাজনিন সুলতানাকে দৌড়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বিলম্বের কারণ হিসেবে জরুরি কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাবার কথা বললেও মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার না থাকায় সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাকি বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেরাজুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদ্যালয়গুলি পরিদর্শন করেছেন এবং অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি নি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা তা জানি না।