শিবগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের এটিএম বুথ না থাকায় ভোগান্তির শিকার ৩০ হাজার গ্রাহক

আপডেট: January 17, 2020, 1:27 am

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


শিবগঞ্জ সোনালী ব্যাংক-সোনার দেশ

সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় এটিএম বুথ না থাকায় বেতন ও ভাতা উত্তোলনে ৩০ হাজার গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সোনালী ব্যাংক ও গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ লাখ অধ্যুষিত শিবগঞ্জ উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ৩০ হাজার হলেও এ ব্যাংকের কোন এটিএম বুথ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। যদিও ব্যাংক কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ভোগান্তি কমাতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা, সুবিধাভোগী ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা উত্তোলন করতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক বয়স্ক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারও কারও বাড়ি ব্যাংক থেকে অনেক দূরে হওয়ায় টাকা উত্তোলনের পর বাড়ি ফিরে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। তাছাড়া সুবিধাভোগীদের মধ্যে যারা খুবই বয়স্ক তাদের কষ্ট আরো বেশী। গত ৪ দিন ধরে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন ভাতা উত্তোলনের সময় সরজমিনে গিয়ে কথা হয় কলেজ শিক্ষক হারুণ অর রশিদের সঙ্গে। তিনি জানান, এক মাসের বেতন অন্য মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে পাই। তাও আবার একজন কলেজ শিক্ষক হয়েও সোনালী ব্যাংকে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে এসে অসহায়ের মত প্রায় ঘন্টা দুয়েক দাঁড়িয়ে থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পেরেছি। যদি সোনালী ব্যাংকের একটি এটিএম বুথ থাকতো তাহলে ইচ্ছামত যে কোন সময় এসে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারতাম। কিছুদিন আগে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা উত্তোলন করতে আসা মোয়াজ্জেম হোসেন মুন্টু( ৭৮), আনিসুর রহমান (৭৫), আবদুল মান্নানসহ ১৫/২০ মুক্তিযোদ্ধা জানান, শেষ বয়সেও ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করতে হচ্ছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাদের এ কষ্ট লাঘবে সোনলামী ব্যাংকে একটি এটিএম বুথ বসানোর জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। পাকা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান বলেন, দূর্গম পথে একমাত্র নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমি আমার সম্মানী ভাতা উত্তোলন করে দিনে দিনে বাড়ি না এসে পরের দিন আসি ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ৭৫ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধা বলেন চলতে পারিনা। তারপরও বয়স্কভাতা তুলতে এসে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছি। সরকারের কাছে এ কষ্ট দূর করার জন্য অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক শিবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (এস পিও) মো. পিয়ারুল ইসলাম বলেন, এ শাখায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৪ হাজার, মুক্তিযোদ্ধাদের ৯ শ ৫০, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতাভোগী ৫ হাজার, কৃষি ১ হাজার, ব্যবসায়ী ৮শ সরকারি অফিসের প্রায় ৩শ সহ মোট ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এ ৩০ হাজার গ্রাহকের সেবা দিতে গিয়ে একদিকে ব্যাংকাররা হিমসিম খাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি গ্রাহকগণও ভোগান্তিতে পড়ছে। এ ভোগান্তি দূর করতে একটি এটিএম বুথের জন্য প্রায় ৩ মাস আগে সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এটিএম বুথ হলে বিভিন্ন ধরনের ভাতাভোগীরা তাদের ইচ্ছামত ভাতা উত্তোলন করতে পারবে। ব্যাংক ভবনের ভীড় কমবে। গ্রাহকদের হয়রানী বা কষ্ট কমবে। ফলে ব্যাংক কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ব্যাংকের অন্যান্য কাজ আরো সুষ্ঠুভাবে করতে পারবে।