শিবগঞ্জে স্ট্রবেরি চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে বেকার যুবকরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ



চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্ট্রবেরির চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ চাষ করে স্বাবলম্বীও হচ্ছেন চাষিরা। শিবগঞ্জের উৎপাদিত স্ট্রবেরি দেশের বিভিন্ন জেলার বড় বড় শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত শিবগঞ্জে প্রায় ৩০ বিঘা স্ট্রবেরি ফলের চাষ হয়েছে।
গত রোববার সরেজমিনে জমিতে গেলে স্ট্রবেরি চাষিদের সঙ্গে কথা হয়, উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামের মৃত সলেমানের ছেলে ইসমাইল (৩৫), মৃত এন্তাজের ছেলে বাবুল (৪৫), মফিজুল হকের ছেলে ইসমাইল (৪০) ও আতাবুর মেম্বারের ছেলে দুরুল ইসলাম (৩৫) এ চারজন যুবক মিলে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। তারা বলেন, এ বছর চারজন মিলে সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি ফলের চাষ করেছি। নিজের জমি না থাকায় বছর প্রতি ১৩ হাজারা টাকা দরে ৩ বছরের জন্য সাড়ে ছয় বিঘা বর্গা নিয়ে তিন বছর আগে স্ট্রবেরি ফলের চাষ শুরু করেছি। জমি তৈরী করে অক্টোবর মাসের দিকে চারা রোপণ করেছি। গত ডিসেম্বর মাস থেকে ফল পেতে শুরু করেছি। এ পর্যন্ত ৬ লাখ টাকার স্ট্রবেরি ফল বিক্রি করেছি। লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৮ লাখ টাকা। আশা করি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কারণ এ মৌসুমে প্রাকৃতিক আবহাওয়া স্ট্রবেরি ফলের অনুকূলে। সামনে এপ্রিল মাস পর্যন্ত স্ট্রবেরি ফল পাওয়া যাবে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে কোন সমস্য হচ্ছে না। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে ফল তুলে প্যাকেটিং করে কার্টুনে ভর্তি করে ঢাকা নাইট কোচে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রাহক এসে কেজি প্রতি ৩শ টাকা দরে খুচরা বা পাইকারি ক্রয় করে নিয়ে যায়। তারা আরো জানায়, তিন বছর আগে বিনোদপুর আলিয়া মাদ্রাসার আরবীর সহকারী অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসেনের নিকট হতে পরামর্শ নিয়ে এ ফলের চাষ শুরু করি। প্রথম দিকে তেমন ফলপ্রসূ হতে না পারলেও পরবর্তীতে ভালো লাভবান হয়েছি। ইচ্ছা আছে প্রতিবছরই চাষের মাত্রা বৃদ্ধি করবো। চারা রোপণ, আগাছা পরিস্কার, সার বিষ সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং উৎপাদিত ফল থেকে পাওয়া যায় দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাখ হয় ১ লাখ টাকা। তাছাড়া বছরে ৮ মাস যাবত ১০ জন লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। নিজেরাও স্বাবলম্বী হয়েছি।
একইভাবে বর্ননা দিলেন একই গ্রামের মৃত আজাহার আলির ছেলে নাজিবুর রহমান (৫৫)। তিনি জানান, সাত বছর আগে মাত্র ৭ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে স্ট্রবেরির চাষ করে খরচ বাদে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। পরের বছর একই ভাবে ২২ কাঠা জমিতে চাষ করে এক লাখ টাকা খরচ করে ফল বিক্রি করেছিলাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার। তৃতীয় বছরে চারা মারা যাওয়ায় লাভ করতে পারে নি। চতুর্থ বছরে ৩ বিঘা চাষ করে খরচ বাদে লাভ হয়েছিল ৩ লাখ টাকা। ৫ম ও ৬ষ্ঠ বছরে আন্দোলন ও হরতালের কারণে পুঁজি হারিয়ে দিয়েছিলাম। ৭ম অর্থাৎ এ বছরে সাড়ে ৭ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছি। ১৫ জন লোকের বছরে ৮মাস কর্মস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এ বছরে খরচ বাদে ১৩ লাখ টাকা লাভ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, স্ট্রবেরি ফল থেকে বিভিন্ন ধরনের জুস, কসমেটিকস দ্রব্য, ওষুধ তৈরী হয়। তাছাড়া এফল পেট পুরে খেলেও কোন ক্ষতি করে না।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা মো. আমিনুজ্জামানা জানান, এ বছর শিবগঞ্জে ৩০ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি ফলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দূর্লভপুর ইউনিয়নের কালুপুর মাঠেই প্রায় ১৮বিঘা রয়েছে। স্ট্রবেরি ফলের চাষ করা লাভজনক। তবে ধৈর্যের প্রয়োজন। কোন কোন বছর কোন লাভ না হতে পারে। তিনি আরো বলেন, শিবগঞ্জ মূলত আম চাষ কেন্দ্রিক হওয়ায় ১০/১৫বছর পর অন্যান্য ফলের ও ফসলের চাষ স্বাভাবিক ভাবেই কমে যাবে। তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বিশেষ করে স্ট্রবেরি ফলের চাষ টিকিয়ে রাখতে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা। কারণ এ ফলের চাষে বিঘা প্রতি এক লাখ টাকা লাভ হয়। যা অন্য কোন চাষে এত লাভ হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, আমি স্ট্রবেরির বাগান পরিদর্শন করেছি। আম বাগানের মধ্যে বাড়তি আয় করতে স্ট্রবেরির ফলের চাস সত্তিই চমকপ্রদ। এখানে খরচ বাদে বিঘা প্রতি এক থেকে সোয়া লাখ টাকা আয় ও বেকার সমস্যা সমাধান হয়। যুবকেরা স্বাবলম্বী হয় এবং আম বাগান সুন্দর ও ভালো থাকে। এজন্য চেষ্টা করবো শিবগঞ্জ উপজেলায় যেন স্ট্রবেরির ফলের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং দিনদিন বৃদ্ধি পায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ