শিবগঞ্জে ১৩ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


শিবগঞ্জের মোবারকপুরের শংকরমাদিয়া গ্রামের এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ১৩ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন পারপার করেন-সোনার দেশ

শিবগঞ্জের মোবারকপুরের শংকরমাদিয়া গ্রামে চালের ডাড়ার উপর শতাধিক বছর থেকে একটি মাত্র বাঁশের সাঁকোই প্রায় ৪০ হাজার লোকের পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা। এলাকাবাসীর অভিযোগএ পর্যন্ত কারো সুনজর পড়েনি। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শংকর মাদিয়া গ্রামের মধ্যে চালের ডালার উপর বাঁশের সাঁকেটির উপর দিয়ে মানুষ অতি কষ্টে পারাপার হচ্ছে। সাঁকোটির দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৩শ ফিট ও প্রশস্ত প্রায় সাড়ে ৩ ফিট। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, এ সাঁকোটির উপর দিয়েই উপজেলার মোবারকপুর, কানসাট ও চককীর্তি ইউনিয়নের শংকর মাদিয়া, চাতরা,শিবনগর, ত্রিমোহনী,গুয়াবাড়ি চাঁদপুর, রানীবাড়ি, সাহেবগ্রাম,কৃষ্ণচন্দ্রপুর, গুহাম বাড়ি,বরগুনাসহ প্রায় ১২/১৩টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে অতি কষ্টে পারাপার হয়।
শংকরমাদিয়া গ্রামের মৃত মোকসেদের ছেলে আবদুর রশিদ জানান দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে ডাড়াটিতে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি পুঁতে পানির উপরে খুঁটির মাঝামাঝিতে ২/৩টি বাঁশ পাশাপাশি বেঁধে ও তার খানিকটা উপরে বাঁশ বেঁধে রাখা হতো। উপরের বাঁশটি ধরে ও নীচের ২/৩ বাঁশের উপর দিয়ে অতি কষ্টে হেঁটে মানুষ পার হতো। এলাকার বাবুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল আলিম, আবদুর রাকিব, সাইদুর রহমানসহ প্রায় ২০/২৫জন মানুষ জানান, স্বাধীনের কয়েকবছর পর থেকে এলাকার কয়েকটি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে প্রতিবছরই দেড় লাখ টাকার বাঁশ কিনে নিজ শ্রমে প্রায় সাড়ে ৩শ ফিট লম্বা ও সাড়ে তিন ফিট প্রশস্ত বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করা হয়। তারা আরো জানান, বন্যার সময় এ সাঁকোটির উপর দিয়ে পারাপার হওয়া খুব কষ্টকর ও ভয়ঙ্কর হয়। বিশেষ করে শিশুদের দেখেশুনে রাখতে হয়। বিদ্যালয়গামী শিশুদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে রেখে আসে।
শংকর মাদিয়া গ্রামের মৃত শুকন আলির ছেলে রমজান আলি(৯৫) বলেন, অনেক নেতাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কেউ ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আরো বলেন, সাঁকোটির দক্ষিন দিকের এলাকায় অনেক আপণ জন থাকলেও এ সাঁকোর উপর যেতে না পারায় তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারি না।
সাহেব গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে সমাজ সেবক ও আলোর দিশারী বয়স্ক শিক্ষা নিকেতনের পরিচালক আকুর রবও শংকর মাদিয়া গ্রামের জবেদ আলির ছেলে ও আলো বহুমুখী বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক সুমন আলি জানান, সাধারণ মানুষের কল্যাণে ত্রিমোহনী ও শংকর মাদিয়া গ্রামের মাঝে বাঁশের সাঁকোটির স্থলে একটি ব্রিজ নির্মান অপরিহার্য। আমরা কয়েকবার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। কিছুটা আশ্বাস দিলেও কোন কাজ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে ব্যাপকহারে বহুমুখী উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জল করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোহিদুর রহমান মিঞা বলেন, সমস্যাটির কথা একজন চেয়ারম্যান হিসেবে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়নি। তবে সামনে উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় বিষয়টি তুলে ধরবো।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁকো সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে এখন জানলাম, সরাসরি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। সব তথ্য আমার জানা নাই। তবে বিষয়টি সঠিক তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধূরী রওশন ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এমনকি কেউ কোন আবেদনও করেননি। এখন শুনলাম ওইখানে পাশাপাশি দুটি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। চেষ্টা করবো সামনে উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের। উল্লেখ্য চককীর্তি ইাউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর ও শিবনগর গ্রামের মধ্যখানে একই ডাড়ার উপর একই ধরনের বাঁশের সাঁকো রয়েছে। যার একদিকে দূর্গম এলাকা ও অন্যদিকে একটি প্রাচীন জামে মসজিদ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে শিবগঞ্জ উপজেলায় কোন নদী বা ডাড়ার উপর কোন বাঁশের সাঁকো থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ