শিব মন্দিরে বাজবে মাইক, সমঝোতায় হিন্দু-মুসলিমরা

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের দুই প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধের আবহ লেগেই থাকে৷ সাম্প্রতিক অতীতে নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই বিরোধ আরও বেড়েছে বলেই মত অনেকের৷ এই প্রেক্ষিতেই সম্প্রীতির অনন্য নজির তুলে ধরল মিরাটের যোগীরামপুরী গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম বাসিন্দারা৷ একসঙ্গে বসে বিবাদ মিটিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথেই হাঁটলেন তাঁরা৷
শিব মন্দিরে মাইক বাজা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা৷ নমাজের সময় মাইক চললে অসুবিধা হয়, এই বলেই আপত্তি তুলেছিলেন তাঁরা৷ সেটা বছর কয়েক আগের ঘটনা৷ তার আগে পর্যন্ত হিন্দুদের উৎসবের সময়ই মাইক বাজত৷ অন্য সময় তা খুলে রাখা হত৷ কিন্তু একদিন পুরোহিত উৎসবের পরও সন্ধেয় ভক্তিগীতি বাজান৷ তাতে অসুবিধায় পড়েন মুসলিমরা৷ তখনই আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা৷ সেই সময় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেও নিয়েছিলেন৷
কিন্তু সম্প্রতি ফের গণ্ডগোল বাধে৷ মুসলিমদের আপত্তিতে রামনবমী চলাকালীন মন্দিরের মাইক খুলে ফেলা হয়৷ কেননা রামনবমীতেও সন্ধের পর দীর্ঘক্ষণ মাইকে ভক্তিগীতি চলতে থাকে৷ ফলে নমাজের সময় ফের বিপাকে পড়েন মুসলিমরা৷ আপত্তি জানান তাঁরা৷ হিন্দুদের পুরনো চুক্তির কথা জানিয়েও দেন৷ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পরই পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়৷ বিপুল বাহিনী পাঠানো হয় গ্রামে৷ যাতে কোনও অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য সতর্ক ছিল পুলিশবাহিনী৷ যদিও আসাধারণ সহনশীলতার পরীক্ষা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ কোনওরকম অশান্তি ছড়াতে দেননি তাঁরাও৷ পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষ আলোচনায় বসে৷ স্থির হয়, শিব মন্দিরেই মাইক থাকবে৷ আরতির সময় তা বাজানোও হবে৷ তবে নমাজের সময় আর ইদের কটাদিন না বাজালেই হল৷ দুই পক্ষ একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে৷ তারপরই পুলিশের সামনেই শিব মন্দিরে মাইক বসানো হয়৷ আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে যে বাসিন্দারা পৌঁছেছেন, তাতে খুশি প্রশাসনও৷- সংবাদ প্রতিদিন