শিরোপা লড়াইয়ে থাকতে চায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গত মৌসুমেই প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। প্রথমবারেই আলোচনায় চলে আসে দলটি। ইংলিশ লিগে খেলা ফরোয়ার্ড চার্লি শেরিংহ্যামকে এনে চমক দেখায় তারা। ছেলে বাংলাদেশে খেলায় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত খেলোয়াড় টেডি শেরিংহ্যামও ঘুরে গেছেন ঢাকায়। যদিও প্রথম মৌসুমে ক্লাবটির তেমন সাফল্য নেই। প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ হয়ে এএফসি কাপে খেলার সুযোগ মিললেও প্রাথমিক পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় সাইফকে।
এবারের মৌসুমের শুরুটাও ভালো হয়নি তাদের। এখন পর্যন্ত হওয়া দুই প্রতিযোগিতায় সুবিধা করতে পারেনি। ফেডারেশন কাপের পর স্বাধীনতা কাপেও শেষ আট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সাইফকে। যদিও মৌসুম শুরুর আগে ভারতের বদৌসা কাপের শিরোপা জেতায় দারুণ আত্মবিশ্বাস সঙ্গী ছিল তাদের।
এরই মধ্যে আবার কোচ বদল হয়েছে সাইফের। ফেডারেশন কাপ চলার সময় স্টুয়ার্ট হলের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন আরেক ইংলিশ জোনাথন ম্যাককিনস্ট্রি। নতুন কোচের অধীনে শুরুটা ভালো না হলেও প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা লড়াইয়ে থাকার লক্ষ্য তাদের।
এবারের মিশনে প্রায় নতুন দল নিয়েই নামতে যাচ্ছে সাইফ। নতুন যোগ দিয়েছেন ১৪ জন খেলোয়াড়। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিফেন্ডার নাসিরুল ইসলাম, মিডফিল্ডার শাহেদুল আলম, ফরোয়ার্ড জাফর ইকবাল ও গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান। তাদের সঙ্গে আছেন গত মৌসুমের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, রহমত মিয়া, রহিমউদ্দিন সহ আরও কয়েকজন।
সাইফ থেকে নতুন ঠিকানা করেছেন বেশ কয়েকজন। যাদের মধ্যে রয়েছেন- ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো, ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মতো কার্যকরী খেলোয়াড়রা।
তারুণ্য-নির্ভর এই দলটি যোগ করেছে চার বিদেশি। গত মৌসুমে খেলা কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার দেইনের কর্দোবার সঙ্গে প্রথমবারের মতো খেলতে নামার অপেক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সিউনগিল পার্ক, রাশিয়ার দেনিস বোলশাকোভ ও কানাডার জোনাথন কর্দোবা। যদিও শেষেরজনের এবারের লিগে নাও দেখা যেতে পারে, ইনজুরি নিয়ে ফেডারেশন কাপের পর দেশে ফিরে গেলেও আর ফেরেননি তিনি।
এ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ‘আমাদের দলের প্রস্তুতি ভালো। তারুণ্য-নির্ভর দল নিয়ে আমরা খেলব। তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। সবাই মিলে ভালো ফল করতে চাই। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের তিনজন বিদেশি খেলোয়াড়। কানাডার কর্দোবাকে লিগে পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে। সে দেশে ফিরে গেছে অনেক আগেই, আর ক্লাবে যোগ দেয়নি। তারপরও আমরা লিগ শিরোপার জন্য লড়ব।’
দলটির ইংলিশ কোচ ম্যাককিনস্ট্রি অবশ্য বিষয়টি নিয়ে তেমন চিন্তিত নন, ‘আমাদের অনেক খেলোয়াড় আছে। একজন কম থাকলেও সেভাবে সমস্যা দেখছি না। আমাদের সবার ওপর ফোকাস আছে, আর সেভাবেই দলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
গতবারের চেয়ে এবার ভালো ফল করার লক্ষ্য এই ইংলিশ কোচের। বলেছেন, ‘গতবার চতুর্থ হয়েছে দল। এবার আরও ভালো করতে চাই। দ্বিতীয় পর্বে বোঝা যাবে কতদূর যাওয়া যাবে। সবাই তো ট্রফি জিততে চায়, আমিও এর বাইরে নই। তবে এই মুহূর্তে দলের উন্নতি নিয়ে কাজ করছি। আমার দলটি তারুণ্য-নির্ভর, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছে। তারা চ্যালেঞ্জ নিতে পারে। আশা করছি ভালো ফল হবে।’
স্থানীয় খেলোয়াড়: জিয়াউর রহমান, নাসিরুল ইসলাম, রহমত মিয়া, আসাদুজ্জামান বাবলু, রিয়াদুল হাসান, জামাল ভূঁইয়া, জাবেদ খান, কবিরুল ইসলাম, শাহেদুল আলম, মেহবুব হাসান নয়ন, সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ তারেক, আল-আমিন, ইয়াছিন আরাফাত, ইমরান হাসান, ফয়সাল আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, জাফর ইকবাল, ওসি মং মারমা, মোহাম্মদ স্বাধীন, সেন্টু কুমার দাশ, অনিক হোসেন, আবু শহীদ, রহিম উদ্দিন, সাইফুল হাসান, পাপ্পু হোসেন, তানভীর হোসেন ও মারাজ হোসেন।
বিদেশি খেলোয়াড়: সিউনগিল পার্ক, দেনিস বোলশাকোভ, দেইনের কর্দোবা ও জোনাথন কর্দোবা।