শীতের আগমনে রাবি ক্যাম্পাসে ভাপাপিঠার দোকান

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ


বছর ঘুরে আবারো বাংলার প্রকৃতিতে এসেছে কুয়াশার চাদর মোড়ানো শীত। সেই সাথে কমে এসেছে রোদের প্রখরতা। আর তাতে রয়েছে এক ধরনের হিমেল পরশ। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হিম ভাবের তীব্রতা যেনো একটু বেড়েই যায়। আর এই শীতের আগমনীকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা মিলছে ভাপাপিঠার দোকান।
কুয়াশাচ্ছন্ন গোধূলী। আকাশের রক্তিম আভা এখনো শেষ হয় নি। এমন সময়ে জমে উঠেছে পিঠার দোকানগুলো। হাওয়ায় ভাসছে মিষ্টি ভাপাপিঠার গন্ধ। গ্রামে শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে উনুনের পাশে বসে পিঠা খাওয়ার দৃশ্য হয়তোবা দেখা মিলবে না ক্যাম্পাসে। তবে সকাল সন্ধ্যায় ভিড় করে ভাপাপিঠা খাওয়ার দৃশ্যও কম সুখকর নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়ায় পিঠা খেতে খেতে কথা হলো গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রবিন বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, বাসায় গিয়ে এখন তো পিঠা খাওয়ার সুযোগ নেই। তাই বছরের প্রথম ভাপাপিঠা দোকান থেকেই খেলাম। তবে বাসার সবাইকে খুব মিস করছি। পরিবারের সবার সাথে শীতের পিঠা খাওয়ার মজা ও অনুভূতিটাই আলাদা।
মাটির হাঁড়ি। মাঝ বরাবর বড় ছিদ্র করা মাটির ঢাকনা। হাঁড়িতে ছিদ্র করা ঢাকনা লাগিয়ে আটা গুলিয়ে ঢাকনার চারপাশে ভালোভাবে মুড়ানো, যাতে করে হাঁড়ির ভিতরে থাকা গরম পানির তাপ বের হতে না পারে। ছোট গোল বাটি জাতীয় পাত্রে চালের গুড়া আর তাতে খানিকটা খেজুর গুড় বা আখের গুড় আর নারিকেল দিয়ে আবার কিছু চালের গুড়া দিয়ে বাটিটি পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে ঢাকনার ছিদ্রের মাঝখানে বসিয়ে দেয়া হয়। এভাবে ২/৩ মিনিট তাপে রেখে সিদ্ধ হয়ে তৈরি হয় মজাদার ভাপাপিঠা। নতুন গুড় আর নতুন চালের গুড়া দিয়ে তৈরি হয় এসব পিঠা।
ব্যস্ততার ফাঁকে বিক্রেতা উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ থেকে তিনি পশ্চিম পাড়ায় ভাপা পিঠা বিক্রি করেছেন। প্রতিদিন পাঁচ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি হয় তার। আয় হয়, ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। খুবই কম শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয় এই ব্যবসায়, জানালেন উজ্জ্বল।
তবে ভাপাপিঠার আকারের ওপর ভিত্তি করে ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকা করে এসব ভাপাপিঠা বিক্রি করে দোকানিরা। এসব ভাপাপিঠার দোকানগুলোতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে রমরমা বেচাকেনা। ভ্রাম্যমান পিঠার দোকানের অধিকাংশ মালিকই হল হতদরিদ্র। যতদিন প্রকৃতিতে শীত থাকবে ততদিন দেখা মিলবে এসব ভাপাপিঠার দোকান। লেখক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।