শীতের প্রকোপে কাহিল জনজীবন শীতার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০১৮, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশে শীতের প্রকোপ, বলা যায় জবুথবু অবস্থা। তাপমাত্রা পাল্লা দিয়ে কমতে আছে। এই পরিস্থিতি আর কয়েকদিন ধরে চলতে থাকলে তা বিপর্য়য়ের সূচনা করতে পারে। সাধারণ দরিদ্র মানুষের নাকাল অবস্থা, দুর্ভোগের সীমা নেই। আগুনের তাপ শরীরে মেখেও শীত নিবারণ কঠিন হয়ে পড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাব সব দরিদ্র পরিবারে। দুর্ভোগ-দুর্দশা নিয়ে প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে সচিত্র খবর বেরুচ্ছে। গরম কাপড়ের আকুতি দরিদ্র মানুষগুলোর মুখ থেকে বের হয়ে আসছে। দিনমজুররা জীবন-জীবিকার সমস্যায় পড়েছে। শহরে প্রান্তে কাজ পাওয়া খুবই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিনের একটা অংশ কুয়াশায় ডেকে থাকছে। সকাল ১১ টার আগে রাজশাহীতে সূর্যের দেখা মিলছে না। সেটার প্রভাবে মানুষের কর্ম-আয়োজন সীমিতভাবে চালু আছে। ফলে দিনমজুরদের কাজ থাকছে না। কুয়াশা মাথায় নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে তারা শহরে কাজের সন্ধানে আসছে বটে কিন্তু তাদের অনেকেই বিফল মনোরথে বাড়ি ফিরছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যসূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক সোনার দেশ জানাচ্ছে, রোববার সকালে রাজশাহীতে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পাঁচ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শনিবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো পাঁচ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ শনিবারের চেয়ে তাপমাত্রা দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিলো রোববার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ।
তিব্র শীতের কোপে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। ত্রাা নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রকাশিত খবরের তথ্য অনুযায়ী ঠা-ার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জনের মতো করে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এসময় শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকগণ।
কয়েকদিন ধরে রাজশাহীতে শীত একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে গেলেও শীতার্ত মানুষের পাশে খুব কমই সহায়তা পৌঁছেছে। এটা এখনই খুব বেশি প্রয়োজনÑ যারা শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে, তাদের শীতবস্ত্র দেয়া এবং যারা দিনমজুর কাজের সংস্থান পাচ্ছে না, তাদের জন্য খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা এখনই তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া জরুরি। সাধারণত দেখা যায়, শীত যখন কমতির দিকে তখন সহায়তার জন্য অনেকেই এগিয়ে আসেনÑ যখন ওইসব দুস্থ মানুষের জন্য অনেকটা পরিহাসের মত মনে হয়। সময়ের সহায়তা সময়ে করলে ওইসব মানুষ উপকৃত হয়।
এই মুহূর্তে সরকারি সহায়তা দ্রুত বৃদ্ধির সাথে সাথে আমরা রাজশাহীর ধনাঢ্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমাসহ অন্যান্য সংস্থাকে দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো আহ্বান জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ