শীত আসছে, গাছিরাও প্রস্তুত

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ


আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর
ষড় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুর আলাদা আলাদা স্বাদ রয়েছে। তেমনি শীত ঋতুর একটি সুমিষ্ট স্বাদ হচ্ছে খেঁজুর গাছের রস। নওগাঁর রাণীনগরের শীতের শুরুতেই খেজুর গাছের মিষ্টি রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার গাছিরা।
শীতের তীব্রতা এখনো দেখা না দিলেও একটু বেশি লাভের আশায় এর মধ্যে খেজুর গাছের রস সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন অনেকেই। দিন দিন খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেছেন সংগ্রহকারীরা। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য এ উপজেলা এক সময় বিখ্যাত ছিল। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন এ ঐতিহ্যবাহী খেঁজুরের রস ও গুড়। কয়েক বছর আগেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, খেতের আইলের পাশে ও রাস্তাার দুই পাশ দিয়ে ছিল অসংখ্য খেঁজুর গাছ। কোন পরিচর্চা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এই সব খেঁজুর গাছগুলো। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু গুড়।
অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাড়তি গুড় সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তা ঘাটের পাশে আর আগের মতো খেঁজুর গাছের দেখা মেলে না। আমাদের অসচেতনার কারণে আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে পরিবেশ বান্ধব গুরুত্বপূর্ণ এই খেঁজুর গাছ। আগের সময়ে অনেকেই খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও আজ খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ গাছিরা তাদের এই পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। হাতে গোনা কয়েকজন এখনও ধরে রেখেছেন এই পেশা।
উপজেলার চকউজির গ্রামের গাছি রুস্তম আলী জানান, আমরা জাতে বাঙ্গালি। মৌসুম ভিত্তিক কিছু খাবারের প্রতি আমরা দুর্বল। খেঁজুর গাছের রসের প্রতি আমাদের দুর্বলতা এখনো আছে। আমার বাবার পেশা ছিল এই খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করা। বাবার মৃত্যুর পর আমি পেশাটি ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু দিন দিন খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেশাটি বর্তমানে ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছি।
খাঁনপুকুর, করজগ্রাম ও বেলঘড়িয়া গ্রামের গাছি আয়নাল, ফজলু, সুমুনসহ আরো অনেকে জানান, আমরা খেঁজুর গাছের কথা ভুলে গেছি। আমাদের উচিৎ অন্য বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি খেঁজুর গাছ রোপণ করা। দিন দিন আমরা অসচেতনার কারণে যে পরিমাণ খেঁজুর গাছ নিধন করছি, সমপরিমাণ খেঁজুর গাছ আমাদের রোপণ করা উচিত। আমাদের উচিৎ আগামী প্রজন্মের জন্য অন্য গাছের পাশাপাশি বেশি বেশি করে খেঁজুর গাছ লাগানো।
তারা আরো জানান, গ্রামের মানুষকে বেশি বেশি করে খেঁজুর গাছ রোপণ করার বিষয়ে উৎসাহিত ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা উচিৎ। তাছাড়া প্রতি বছর আমরা যে পরিমাণে খেঁজুর গাছ কেটে ফেলছি তাতে আর কয়েক বছর পর এই খেঁজুর গাছের রস পাওয়া যাবে কিনা তা আমরা জানি না। পূর্বে আমরা প্রচুর পরিমাণ খেঁজুরের রস পেতাম আর সেই রস দিয়ে গুড় তৈরি করতাম। আর এখন রসের পরিমাণ কমে যাওয়ায় কিছু অসাধু গাছিরা রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। খেঁজুর গাছের এই সঙ্কট নিরসনে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বেশি বেশি করে সাধ্যমতো খেঁজুর গাছ রোপণ করতে হবে।