শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে ন্যক্কারজনক হামলা ২৫ বছর পর হলে দুর্বৃত্তরা সাজা পেল

আপডেট: July 5, 2019, 12:32 am

পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৫ বছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে বোমা হামলা ও গুলির ঘটনায় বিএনপির ৯ নেতাকর্মীকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত।
এ মামলার ৫২ আসামির মধ্যে ২৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামি বিচার চলার মধ্যেই বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন।
পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী ৩ জুলাই জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে।
তথ্যমতে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রেন মার্চ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে খুলনা থেকে ট্রেনে করে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে তার যাত্রাবিরতি ও পথসভা করার কথা ছিল। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। তবে ওই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হামলার ঘটনায় রেল পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ আসামি হিসেবে দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু তখনকার বিএনপি সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত আটকে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।
তদন্ত শেষে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পরে অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত।
২৫ বছর আগের ওই ঘটনা দেশে ও বিদেশে বহুল আলোচিত একটি ঘটনা। তৎকালীন বিএনপি সরকারের নিন্দায় সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদলীয় নেতাকে হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তৎপর ছিল ওই সময়ের বিএনপি সরকার। যেমনটি বিএনপি- জামাত জোটের সরকার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়ঙ্কর গ্রেনেড হামলার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার সব ধননের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। একটি রাজনৈতিক দল ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার পৈশাচিক তৎপরতা বিএনপি রাজনীতিদর মধ্য দিয়ে বার বার প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতিতে এমন জঘন্য ঘটনা মোটেও প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু শাসকগোষ্ঠি সেই কাজটি বার বার করেছে। শেখ হাসিনাকে হত্যা- প্রচেষ্টার অনেকগুলো ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে ভয়ঙ্করূপে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। যার দায় বিএনপি- জামায়াত কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। শুধু শেখ হাসিনাকে নয়Ñ আওয়ামী লীগের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের উপর বিএনপি-জামাতের নিষ্ঠুর আক্রমণ ও হত্যা এক কালো অধ্যায় হয়েছে। জনপ্রিয় আহসানুল্লাহ মাস্টার, শাহ এমএস কিবরিয়া, মমতাজ উদ্দিনসহ অসংখ্য নিবেদিত-প্রাণ জনপ্রিয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। বোমা-সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা দেশের মানুষের মধ্যে এখনো ভীতি ও আতঙ্কের অভিজ্ঞতা।
দেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে বিনাশ করা করার চর্চা পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয়। এটা জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান সময়ে যে রাজনীতির সঙ্কট সেই ধারাবাহিকতা থেকেই এসেছে। বিরোধীদলীয় নেতাকে বারবার হত্যার প্রচেষ্টা জাতীয় রাজনীতির জন্য মোটেও শুভ হয় নি, এটা হতেও পারে না। সময় এসেছে রাজনীতিকে তার সঠিকপথে নিয়ে আসার। এ উপলব্ধি বিএনপি রাজনীতির মধ্যে চর্চিত হওয়া জরুরিÑ দলটির বর্তমান সঙ্কট উত্তরণে সেই ইঙ্গিতই দেয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ