শেষ পাতা, খবর সিলিকোসিস রোগ প্রতিরোধ পাথর ভাঙা শ্রমিকদের বিতরণ করা হবে ৫ হাজার মাস্ক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রতি বছর সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা যান অনেক পাথর ভাঙা শ্রমিক। মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ ব্যবহারে অবহেলার কারণেই এ রোগে আক্রান্ত হন তারা। এ অবস্থায় মরণব্যাধি সিলিকোসিস প্রতিরোধে পাথর ভাঙা শ্রমিকদের বিতরণ করা হবে পাঁচ হাজার ফিল্টারেবল ও ওয়াশেবল মাস্ক। সম্প্রতি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলের বোর্ড সভা। সভায় প্রায় এক ডজন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেসব সিদ্ধান্তের একটি ছিল পাথর ভাঙা শ্রমিকদের জন্য মাস্ক বিতরণ করা। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর পূর্বসিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বোর্ড সভায় গৃহীত অন্য সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে আছেÍ রূপালী ব্যাংকের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস শিওরক্যাশের মাধ্যমে কল্যাণ তহবিলের সেবা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং পাথর ভাঙা শ্রমিকদের কল্যাণে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডা. এএমএম আনিসুল আউয়াল বণিক বার্তাকে বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সহায়তার অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রূপালী ব্যাংক আমাদের অনুমোদনসাপেক্ষে শিওরক্যাশের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ পাঠিয়ে দেবে। লালমনিরহাটের পাথর ভাঙা শ্রমিকদের জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল, এখন আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। এর রূপরেখা হয়ে গেছে, কেবল সরকারি আদেশ জারির অপেক্ষা।
পাথর ভাঙা শ্রমিকদের সিলিকোসিস রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, লালমনিরহাটে প্রতি বছর হাজার হাজার শ্রমিক সিলিকোসিসে মারা যাচ্ছেন। এ মৃত্যু রোধ করতে হবে। সিলিকোসিস রোগ থেকে বাঁচাতে হলে কর্মক্ষেত্রে পাথর ভাঙা শ্রমিকদের আচরণগত পরিবর্তন আনার জন্য মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করা হবে। নমুনা হিসেবে আমরা প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে ২০০ থেকে ৩০০টি মাস্ক বিতরণ করব। এরপর থেকে মালিকপক্ষকেই শ্রমিকদের জন্য এ মাস্ক বিতরণ করতে হবে।
সভায় তৈরি পোশাক খাতের ৪০ লাখ শ্রমিকের তহবিল ব্যবহারের বিষয়েও নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর তা হলো এ খাতের শ্রমিকদের দুরারোগ্য রোগ হলে চিকিৎসা জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। চিকিৎসার সহায়তা দেয়ার জন্য এরই মধ্যে ২৫০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। আরেকটি সিদ্ধান্ত হলো পোশাক শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান। যেসব গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তান এসএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৫ বা তার ঊর্ধ্বে জিপিএ পেয়েছে, তাদের বছরে ২০ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হবে। এ বৃত্তি দেয়ার জন্য ২০০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। চিকিৎসা ভাতা এবং শিক্ষাবৃত্তিÍ দুটিই প্রদান করা হবে শিওরক্যাশের মাধ্যমে।
উল্লেখ, কর্মক্ষেত্রে হতাহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গঠন হয় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন। তবে এ তহবিলে অর্থ জমা শুরু হয় ২০১৩ সালের জুলাইয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালনা বোর্ড গঠনের পর। এ পর্যন্ত তহবিলে অর্থের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তহবিল থেকে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৪ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের কল্যাণে গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা পড়েছে ১০০ কোটি টাকা।