শেষ সময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে নওগাঁর কামারপল্লীতে

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৯, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, নওগাঁ


নওগাঁর কামারপল্লীতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা-সোনার দেশ

আসন্ন কোরবানীর ঈদকে ঘিরে শেষ সময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে নওগাঁর কামার পাড়ায়। ক্লান্তি ভুলে দিনরাত চলছে কামারপল্লীতে টুংটাং শব্দ। কামারপল্লীর চারদিক এখন টুংটাং শব্দে মুখরিত। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর কাজের পরিমান কম সেই সঙ্গে কামারদের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বাড়লেও কাজের মূল্য কিন্তু তেমন বাড়েনি। পছন্দের পশু কেনার পর কামার বাড়িতে ছুটছেন মানুষ অনেকেই।
কোরবানীর ঈদ মানেই পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন যন্ত্রপাতির। আর এই সব যন্ত্রে ধার দেয়া, নতুন করে মেরামত ও কেনার জন্য যেতে হয় কামারদের কাছে। সারা বছর কামারদের তেমন কোন কাজ না থাকলেও কোরবানীর ঈদের সময় যেতে হয় ওদের কাছে ছোট-খাটো কাজের জন্য। তাই শেষ সময়ে এসে টুংটাং শব্দে সরগম হয়ে উঠেছে কামার পাড়াগুলো। হাপরের হাঁসফাঁসে আগুনের শিখায় লোহাকে পুড়িয়ে হাতুড়ি পেটুনিতে লোহা থেকে র্স্ফুলিঙ্গ ছড়াচ্ছে। নিপুন হাতে তৈরি করা হচ্ছে পশু কোরবানির পাশাপাশি মাংশ কাটার ছুরি, দা, বঁটি ও চাপাতি। বছরের ১১টি মাস তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদ আসলে রাতদিন ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের। ছুরি-চাপাতি বানিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের কাজের কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। অপরদিকে, কোরবানির ঈদে মাংস কাটার জন্য দা-ছুরির পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ শক্ত কাঠের গুড়ি বা কুন্দাও বিক্রি করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরঞ্জাম তৈরিতে স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভাল এবং দামও বেশি। লোহার মানভেদে হাড়কাটি (চাপাতি) ৩৫০-৪০০ টাকা, পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরি ৪০০-৬০০ টাকা, চামড়া ছড়ানো ছুরি ৮০-১০০ টাকা, দা ৪০০-৪৫০ টাকা, বঁটি ৩৫০-৫০০ টাকা, হাতা ৬০-৭০ টাকা, কুড়াল ৫০০- ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।
জেলা সদরের চকবুলাকি গ্রামের কালাম হোসেন বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। পশু জবাই করতে হবে এবং মাংস কাটাতে হবে। তাই কামার বাড়িতে পশু জবাইয়ের বিভিন্ন জিনিস তৈরি, পুরনো যন্ত্রপাতি ঝালাই ও সান দেয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু এসে দেখি দম ফেলানোর সময় নেই কামারদের। কাজের জন্য তাদের কাছে সিরিয়াল দিতে হচ্ছে।
জেলার রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহানী গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, বছরের একটি দিন কোরবানি জবাই ও মাংশ কাটার এই সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। নতুন করে তৈরি করার সময় না থাকায় আমি রেডিমেট সরঞ্জামাদি কিনতে এসেছি কামারপল্লীতে। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম একটু তুলনামূলক ভাবে বেশি নেওয়া হচ্ছে।
রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহানী হাটের কামার শিল্পী রঘুনাথ বলেন, আগের মতো এখন আর যৌবন নেই কামারদের কাজে। দিন যাচ্ছে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আমরা মূল্য বৃদ্ধি করলেই দোষ। এবছর কয়লার আমদানী না থাকায় আমরা পড়েছি বিপাকে। কি দিয়ে কাজ করবো। তবুও শেষ সময়ে এসে কাজের চাপ অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে কামার পাড়ায় কাজের ব্যস্ততায় এখন চলছে উৎসবের আমেজ। আমাদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই।