শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় চলনবিলে বোরো ধান পচনে ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলা

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০১৮, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে-সোনার দেশ

শস্যভাণ্ডার খ্যাত সেই চলনবিলে এবার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তন না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল। শৈত্যপ্রবাহে থমকে দাঁড়িয়েছে কৃষকের বোরো চাষ। তীব্র শীতে বীজ তলা নষ্ট হওয়ায় চারা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চলনবিলের কৃষকরা।
সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর চলনবিলের শুধুমাত্র সিংড়াতেই ৩৭ হাজার হেক্টর বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু বৈরি আবহাওয়া ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয় হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। চলমান শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের চারা গাছ মরে যাচ্ছে। তাছাড়া দিনমজুররা মাঠে নামতে পারছে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ে বোরো ধান রোপনে দিন দিন ভাটা পড়ছে।
সরোজমিনে চলনবিলের সাতপুকুরিয়া, কান্তনগর, তাজপুর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ মৌসুমে মাঠে মাঠে বোরো চাষে কৃষকদের ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তীব্র শীতের কারণে আগুন জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেক কৃষাণ-কৃষাণীরা। মাঠে কৃষকদের বোরো রোপণে দেখা যাচ্ছে খুবই কম। ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা শুকিয়ে লালচে আকার ধারণ করেছে।
এ ব্যাপারে কান্তনগর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তীব্র শীতে তার ৭বিঘা জমির ধান পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাকে পুনরায় নতুন করে ধান রোপন করতে হচ্ছে। এতে করে তাকে পুনরায় হালচাষ, চারা কেনা ও কৃষাণের খরচ বাবদ প্রতিবিঘা বাড়তি ৩ হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে। অপর কৃষক রইচ উদ্দিন বলেন, তিনি ডিগ্রি পাস করে তার সংসারে হাল ধরেছেন। এ বছর তিনি ১৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় তার জমির সম্পূর্ণ ধান মরে গেছে। এখন এই জমিতে নতুন করে চাষাবাদ ও বোরো ধান রোপণে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি তার সংসার চালানে নিয়েই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কথা হয় পেট্রোবাংলা পয়েন্টে চা স্টলে আরেক কৃষক আবদুল লতিফের সঙ্গে, কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে তার ১৫ বিঘা জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দুঃচিন্তায় রয়েছেন নতুন করে আবার ধান রোপণ করতে পারবেন কি না? তাছাড়া শৈত্যপ্রবাহ কমার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দিন দিন শীতের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় তার মতো অনেক কৃষক শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহে চলনবিলের অতিথি পাখিদের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া কৃষকের লাগানো ধান ও বীজ তলা পঁচে নষ্ট হওয়ায় এবছর চলনবিলের কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত সিংড়া উপজেলায় মাত্র ছয় হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। তীব্র শীতের কারণে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাই কৃষকদের একটু দেরিতে ধান রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রোপণকৃত ধানে প্রতিদিন গরম পানি দিতেও কৃষককে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে চলনবিলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

Don`t copy text!