শ্রীলঙ্কায় এবার টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখছে জিম্বাবুয়ে!

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০০১ সালের নভেম্বরের একটি সকাল মনে থাকার কথা অনেক মাশরাফি-ভক্তের। ডিওন ইব্রাহিমের স্টাম্প উড়িয়ে পরের বলেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট কার্লাইলকে। ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশের কোনো বোলার গতিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানের এমন রূপ কেই বা ভুলতে পারে? সে দিনকে জিম্বাবুয়েও ভুলতে পারে নি। প্রতিপক্ষে মাঠে সর্বশেষ টেস্ট জয়ের স্বাদ যে এরপর আর পায়নি জিম্বাবুয়ে। সে দুঃখ কি ঘুচবে জিম্বাবুয়ের?
এ প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষায় গতকাল নির্ঘুম থাকার কথা পুরো জিম্বাবুয়ে দলের। ৬ উইকেটে ২৫২ রান করে ফেলেছে জিম্বাবুয়ে। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ২৬২ রানের লিড। শ্রীলঙ্কার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে এ রান তাড়া করা যে বড্ড কঠিন। এমন সুযোগ যে সব সময় আসে না। শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকেই হারানো! স্টিভ স্মিথের অস্ট্রেলিয়া তো লঙ্কা-ভূমে এসে নাকানি-চুবানি খেয়ে গেল গত বছর। বাংলাদেশ অবশ্য প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কায় টেস্ট জিতেছে কদিন আগেই। কিন্তু এর আগে নিজেরাও বেশ বড় ব্যবধানে হেরে বসেছে। সে তুলনায় জিম্বাবুয়ের এমন কিছু যে অকল্পনীয়, মোটা দাগে অঘটন! ম্যাচের ফলাফল আজ যা-ই হোক না কেন, এ টেস্টকে ভুলবে না জিম্বাবুয়ে, ভুলবেন না সিকান্দার রাজা।
রাজার ব্যাটিং দেখে প্রশংসাসূচক যে শব্দগুচ্ছই ব্যবহার করা হোক, ‘টেস্ট উপযোগী’-এই বিশেষণটা দেয়া খুব কঠিন। টেস্ট খেলার সুযোগও যে খুব বেশি হয়েছে সেটা বলা যাচ্ছে না। টেস্টের আগে মাত্র ৬টি টেস্ট খেলেছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮২ রানই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। গতকাল তাই ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাজা যখন নামলেন, জিম্বাবুয়ের ড্রেসিংরুম খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। প্রথম ইনিংসে ৩৬ রান করার পরও না।
ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আক্রমণাত্মক রাজা কতক্ষণ টিকে থাকেন, সেটা নিয়েও সন্দেহ জাগছিল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবারের মতো লিড নিয়ে, হোক না সেটা মাত্র ১০ রানের। সে স্বস্তিটা কর্পূরের মতো উবে গেল প্রথম আধা ঘণ্টায়। রঙ্গনা হেরাথের ঘূর্ণিতে ২৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসল জিম্বাবুয়ে। রাজা নেমে একটু থিতু হওয়ার আগেই শন উইলিয়ামস আউট হয়ে গেলেন দলীয় ৫৯ রানে। শ্রীলঙ্কা তখন জয়ের জন্য লক্ষ্যটা কী হবে, ১০০ নাকি তারও কম-সে হিসাব করছিল! লিডের আকার ৭০ হওয়ার আগেই তো প্রথম ৫ ব্যাটসম্যান নেই!
পিটার মুরকে পেয়ে আস্থা ফিরে পেলেন রাজা। না, নিজের ব্যাটিং স্টাইলে কোনো পরিবর্তন আনেন নি। ৬২ বলেই পেয়েছেন ফিফটি। অন্য প্রান্তে মুর খেলেছেন পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে। দুজন মিলে ভয়াবহ একটি শুরুকে স্থিতি এনে দিলেন। দলীয় ১৪৫ রানে মুর আউট হওয়ার পরও বিপদ হতে পারত। কিন্তু হতে দেন নি ম্যালকম ওয়ালার (৫৭*)। দাপুটে এক ইনিংসে, শ্রীলঙ্কার বোলারদের দিশেহারা করে দিলেন। আর রাজাও একটু শান্ত হয়ে খেললেন দিনের শেষভাগ কাটিয়ে দিতে। ওই ‘শান্ত’ খেলাতেই ১০৭ রানের অপরাজিত এক জুটি।
২৬২ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করল জিম্বাবুয়ে। ৯৭ রানে অপরাজিত আছেন রাজা। গতকালই সেঞ্চুরি না পাওয়াটাই একমাত্র অস্বস্তি। আবার তাঁকে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন শেষ করে ফিরতে দেখা সবচেয়ে বড় স্বস্তি জিম্বাবুয়ের।
এ নিয়ে জয়ের আশা করতেই পারে সফরকারীরা। শ্রীলঙ্কায় দুই শ বা এর বেশি রান তাড়া করে ৫৫ বার ব্যাটিংয়ে নেমেছে বিভিন্ন দল। এর মধ্যে মাত্র পাঁচবার জয় পেয়েছে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা দল। তার একটিও আবার প্রেমাদাসায় নয়!
ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাতে যেতেই পারেন রাজারা। ২৬২, এখনই অনেক বড় স্কোর। আর সেটিকে আরও বড় করার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবেন রাজা।-প্রথম আলো অনলাইন