সংকটে পড়েছে রাবির একীভুত দুই বিভাগ

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লায়েড ফিজিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এপিইই) এবং ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ দুটি একীভূত করার পর থেকে বিভাগটিতে নানা সংকটের দেখা দিয়েছে। এক সেমিস্টারের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও আটকে আছে চূড়ান্ত পরীক্ষা। দুইবার পরীক্ষার নোটিশ-রুটিন প্রকাশ করলেও বিভিন্ন কারণে পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। এতে সেশন জটের কবলে পড়তে যাচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বে ক্লাস-পরীক্ষা সময়মতোই হচ্ছিলো। দুই বিভাগ একত্রিত করার পর গত জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পরীক্ষার নোটিশ ও রুটিন দেয়া হলেও পরবর্তিতে সেই তারিখ বাতিল করা হয়। এরপর বিভাগের সভাপতি আরও একটি পরীক্ষার তারিখ দেন। সে তারিখেও পরীক্ষা হয়নি। এতে এক সেমিস্টার পিছিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বিভাগ একত্রিত করার প্রতিবাদে আমরা শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবিকে উপেক্ষা করেছে প্রশাসন, যার ফলে সেশনজটের বলি হতে যাচ্ছি আমরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরিক্ষা নেয়ার জন্য আমরা সভাপতি বরাবর কয়েকবার আবেদন করেছিলাম। তিনি শুধু আমাদের আশ্বাসই দিয়ে গেছেন। বারবার পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে তা আবার বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বাইরে থাকার প্রভাব আমাদের একাডেমিক রেজাল্টে পড়তে পারে।’
এপিপিই (পূর্বে) বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে ততো বেশি চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন। তাদের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের ভবিষ্যতের সুবিধার্থে বিভাগ দু’টি একিভূত করার দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়েছে। তবে পরীক্ষা সময়মতো হোক সেটা সবারই প্রত্যাশা।
সেশন জটের শঙ্কা প্রকাশ করেন বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক আবু জাফর মু. তৌহিদুল ইসলামও। তিনি বলেন, দুই বিভাগ একিভূত করা হলে এরকম সমস্যা হতে পারে সেই আশঙ্কা আগেই ছিলো। একিভূত করার আগে উচিৎ ছিলো বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার, এবং যাতে সমস্যা এড়ানো যায় তার ব্যবস্থা নেয়ার।
সভাপতি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে পরিক্ষার নোটিশ-রুটিন দেয়ার পরেও পরিক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, এপ্লায়েড ফিজিকস বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইইই ডিগ্রীর প্রদান করতে হবে। সেজন্য বিভাগের সিলেবাসসহ বিষয়কোড ও কিছু অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করতে হবে। এগুলো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই পরীক্ষা নিতে সময় লাগছে।
তবে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সমস্যার দ্রুত একটা সমাধান করার জন্য আমরা একাডেমিক কাউন্সিলে চিঠি দিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত এর সমাধান পাবো। তিনি আরও বলেন, এই সেমিস্টারে হয়তো আমরা পিছিয়ে যাব। কিন্তু এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পরবর্তী সেমিস্টারগুলো যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ দুই বিভাগ একিভূত করে ইইই নামে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কারিকুলাম পরিবর্তন, পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে আহ্বায়ক এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও দুই বিভাগের সভাপতিকে সদস্য করে ৫ সদস্যের এক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী এম জাকারিয়া বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠেয় একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিভাগটির বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য কমিটির সুপারিশনামা পাঠাবো। সেখান থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আশা করি সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ