সওজের সহকারী প্রকৌশলীকে হাত পা ভেঙে দেয়ার হুমকির অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


নাটোরে নিম্নমানের কাজে বাঁধা দেয়ায় লিটন আহমেদ খান নামে নাটোর সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজের) এক সহকারী প্রকৌশলীকে পিস্তল নিয়ে ধাওয়া করেছে ঠিকাদার আশফাকুল ইসলাম ও তার লোকজন। এসময় ঠিকাদার ওই প্রকৌশলীকে কাজের জায়গায় আসলে তাকে মেরে হাত পা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে হয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে সওজের সহকারী প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খান নিরাপত্তা চেয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বর্তমানে নিরাপত্তার অভাবে সহকারী প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খান বুধবার ওই কাজে পরিদর্শনে যাননি।
সূত্র জানায়, বাঘার আড়ানী এবং বাগাতিপাড়া উপজেলায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য রাস্তা নির্মাণ করছে নাটোর সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। আর ওই সড়কটি নির্মাণ কাজ করছেন নাটোরে ঠিকাদার আশফাকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগি লিটন আহমেদ খান ও বাগাতিপাড়া থানার জিডি সূত্র জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ওই সড়কে প্রাইম কোট দেয়া নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খানের সঙ্গে ঠিকাদার আশফাকুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় ঠিকাদার আশফাকুল প্রকৌশলীকে হাত পা ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
এসময় সহকারী প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের লোকজন ধাওয়া দিলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসেন তিনি। পরে বিষয়টি সওজের উদ্ধর্তন এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সহকারী প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খান বলেন, আড়ানি-বাগাতিপাড়া সড়কের ঠিকাদার আশফাকুল ইসলাম ও তার লোকজন প্রাইম কোটের আগে কার্পেটিং করতে চায়। এসময় মালামালের গুণগত পরীক্ষা করে তারপর কার্পোটিং করার কথা বলা হয়। কিন্তু সে কোনো থাকা না শুনেই আমাকে ধাওয়া করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার জন্য হুমকি দেয়। বর্তমানে নিরাপত্তার অভাবে আমি কাজের সাইডে যেতে পারছি না। বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এব্যাপারে ঠিকাদার আশফাকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে তাকে কোনো মারপিট বা ধাওয়া করা হয়নি। সে যে কোনো উদ্দ্যেশ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঠিকাদার আরও বলেন, ওই প্রকৌশলী নিয়মিত আমাকে বিরক্ত করে আসছে। কোনো নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন তালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আফতাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী দেশের বাইরে রয়েছেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরলে পরবর্তীতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচাার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বুধবার সকালে ওই প্রকৌশলী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন। জিডির তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান,ওই প্রকৌশলী লিটন আহমেদ খানকে বলা হয়েছে অভিযোগ দিতে। তিনি অভিযোগ করলে এর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ