সঞ্চিতি ঘাটতিতে ১৩ ব্যাংক

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া আমানত থেকে ঋণ বিতরণ করে ব্যাংক। আমানতের সুরক্ষার জন্য ব্যাংকগুলোকে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে বিভিন্ন হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতিতে পড়েছে নয়টি বেসরকারি ব্যাংক। একই তালিকায় রয়েছে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নামও।
সব মিলিয়ে জুন শেষে দেশের ১৩টি ব্যাংকই গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অথচ গত ডিসেম্বর শেষে প্রভিশন সংরক্ষণে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা ছিল নয়টি। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চিতি ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ল চারটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিংয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারা নয়টি বেসরকারি ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৭৮ কোটি টাকা ঘাটতিতে পড়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে— এবি ব্যাংকের ১৪৭ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪২২ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১৬০ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের প্রায় ২১ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১০৬ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৬৮ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১৬ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৪৬ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।
বিতরণকৃত ঋণের বড় অংশই খেলাপি হয়ে যাওয়ায় প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকও। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রভিশন ঘাটতিতে আলোচিত বেসিক ব্যাংকের অবস্থান প্রথম সারিতে। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি যথাক্রমে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা ও জনতা ব্যাংকের ৮৯০ কোটি টাকা। এ ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত এবং নিয়মিত ঋণের বিপরীতে শূন্য দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। ব্যাংকগুলোকে নিম্নমান বা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, ডাউটফুল বা সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা খারাপ ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় প্রভিশন সংরক্ষণের পরিমাণও বাড়ছে। গত ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলোর ১৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা