সবজির বাজারে স্বস্তি, তবে নতুন আলুতে আগুন

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৮, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মাঠে থেকে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহী অঞ্চলের টমেটো। এবারে কিছু কৃষক আগাম এই টমেটো আবাদ করেছে বাজারে একটু বেশী দাম পাবার আশায়। এখন প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ শত মণ দরে। ছবিটি রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার সাগরাম মাঝির গ্রাম থেকে ছবিটি তুলেছেন ফটোসাংবাদিক শরিফুল ইসলাম তোতা

শীতকালীন সবজির দাম নি¤œ ও মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে চলে এসেছে। এতে করে খুশি ক্রেতা- বিক্রেতা সকলে। গতকাল রোববার নগরীর সাহেববাজারের সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন-ই চিত্র। বর্তমানে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ফুলকপি, সিম, মূলা, পটল, বেগুন, বাঁধাকপিসহ সব ধরনের সবজিতে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে কমেছে। এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও টমেটো। তবে বর্তমান বাজারে নতুন আলুর দামে আগুন। নতুন আলু উঠলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
পনের দিন আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। বাধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা পিস। বেগুন প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেপেঁ প্রতি কেজি ৫ টাকা, কলা প্রতি হালি ১০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ২০ টাকা, লাল শাক প্রতি কেজি ১০ টাকা, পালং শাক প্রতি কেজি ১০ টাকা, পুই শাক প্রতি কেজি ৮ টাকা ।
এছাড়া মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ১৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১৫ থেকে ২০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, লাউ প্রতিটি ১০ টাকা, লেবু প্রতি ৪ পিস ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বেশি দামে বিক্রি হওয়া সবজির মধ্যে আছে নতুন আলু। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। নতুন গাজর ৬০ টাকা ও পুরাতন গাজর ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে কাঁচা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, পুরাতন টমেটো ১০০ টাকা দরে।
সবজি বিক্রেতা বিপ্লব বলেন, বর্তমান বাজারে সবজি পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরে উঠেছে যার ফলে সবজির দাম কমতেই রয়েছে। কয়েকটা সবজির ব্যতিত সব সবজিই এখন ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ দিনের ব্যবধানে ফুলকপি দাম ৩৫ থেকে ৪০ কমে ১০ টাকায় নেমেছে। শুধু ফুলকপিই না সব সবজির দামি এভাবে কমেছে। সবজির দাম আরো কিছুটা কমতে পারে বলে জানান তিনি।
নগরীর মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সিলভার কাপ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, কই মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি কই ৪০০ টাকা, রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, ইলিশ সাইজ আকারে বিক্রি ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা, কাতল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, বোয়াল মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৫০০ টাকা, নদীর চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, পুঁটির মাছ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, গিলাসকার্প ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, মিরকা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বাঁশপাতা ৫০০ টাকা, ময়ামাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা মোমিন বলেন, বর্তমানে মাছের বাজারের দাম কমের দিকে। কয়েকদিন থেকে মাছের দাম কিছুটা হলেও কমেছে। তবে সামনের দিকে মাছের দাম বাড়বে বলে জানান তিনি।
মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, মহিষ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে। গরু, মহিষ ও খাসির মাংসের দাম কমাবাড়া না হলেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১০ টাকা করে কমে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা দরে, সোনালী ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা দরে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ