সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের সরকার আপোসহীন

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

সুজিত সরকার
দেশের চলমান আর্থ-রাজনীতিক অবস্থা অনেকেরজ্জবিশেষ করে জামাত-বিএনপির দৃষ্টিতে খারাপ মনে হলে দেশের মানুষ সে রকম মনে করে না। কারণ সাধারণ মানুষ ভাত-কাপড় আর নিরাপদে জীবন অতিবাহিত করতে পারলেই সন্তুষ্ট। তারা কখনোই ভাবে না কে কোন্ ধর্ম কেনো পালন করে এবং নিজের বিপরীত ধর্মের মানুষ খারাপ বা আক্রমণাত্মকজ্জএ আশঙ্কা তাদের মোটেও নেই। কারণ বাঙালি শ্বাশতকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এখনো সে পরিবেশ অনেকটাই বলবৎ আছে। কিন্তু কতিপয় সাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরোধী সশস্ত্র জঙ্গি জামাত-বিএনপির মদদে নিরববিচ্ছন্নভাবে কিছু অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মানুষকে নৃশংসভাবে খুন-জখম করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। জাতির সৌভাগ্য যে শেখ হাসিনা সরকার মানবতাবিরোধী এই অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশে আজকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব আর মহররম সমান্তরালে উদ্যাপিত হচ্ছে। এখন পর্যণÍ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ব্যতীত ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ এবং আড়ম্বরে পালিত হচ্ছে। সরকারও এ বিষয়ে সতর্ক।

Untitled-1
বাংলাদেশ এই উর্বর ভূমি আর জল-হাওয়ার গুণে শান্তিপ্রিয় এবং শান্ত। এ দেশের নিরঙ্কুশ অধিবাসীর ভাষা অভিন্ন। খাদ্যাভাষও এক রকম। কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। আমরা ওইটুকু পেলেই স্বস্তি পাই। স্বাচ্ছন্দবোধ করি। তাহলে বিরোধের জায়গাটা তো নেই। কেউ গোরু জবাই করলে কিংবা শুকর কাটলে তার বৃত্তের মধ্যে কাটে। কাউকে হেয় করার লক্ষ্যে কিংবা উৎপীড়নের জন্যে সেটা করে না। নিছক রসনা পূরণের জন্যে অথবা আমিষের অভাব পূরণের লক্ষ্যে করে। কিন্তু কেউ কারো আয়োজনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেজ্জএমন ঘটনা অপ্রতুল।
বাংলাদেশ একদিন বিশ্বমানের আর্থ-রাজনীতিক অবস্থানে পৌঁছুবে। তবে তার পূর্ব শর্ত স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি যারা আস্থাশীল ও শ্রদ্ধাশীল তারা ব্যতীত আর কেউ সরকারি ও বিরোধী দলে থাকবেন না। অবশ্য সে রায় দেয়ার দায়িত্ব জনসাধারণের। ভোটারের। তবে এটাও এখন সত্যি যে, বাংলাদেশের ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল নেতাদের তারা ইতোমধ্যে চিনে নিতে পারছেন। ক্রমে সে দৃষ্টি আরো প্রসারিত হবে। দেশের মানুষ এখন কেউ কি না খেয়ে থাকে? এমন দৃষ্টান্তও খুব কম। ক্রমাগত কর্মক্ষেত্রেরও প্রসার ঘটছে। শিল্পায়ন হচ্ছে। উন্নতি ঘটছে আন্তর্দেশিয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। চিন-রাশিয়া-ভারত-বাংলাদেশ-ভূটান-নোপল-মায়ানমার-আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও যোগাযোগের চুক্তি। এ ক্ষেত্রেও জনবল অপরিহার্য। সেখানে বাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষের ঠাঁই হবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। যখন কাজ থাকে, মানুষ জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ উবে যায়। কখন ওসব অশুভ-অপরাধপ্রবণতা নিয়ে মানুষ ভাববে। তখন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য উৎপাদন এবং মূল্য নির্ধারণের চিন্তায় সকলকে সময় দিতে হবে। না হলে আরো বড়ো বড়ো শিল্পোন্নত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে যাবে। উৎপাদিত পণ্যের মান-গুণ এবং মূল্য সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে গেলে সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ কিংবা কে আদিবাসী কে মূল স্টিমের অধিবাসী সব ভুলে যাবে। একজন নিগ্রো যখন আমেরিকা কিংবা জার্মানের হয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতে সেটা কিন্তু আফ্রিকার কোনো দেশের স্বর্ণজয় নয়, সেটা যে দেশের তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সে দেশেরই গৌরব। এ ভাবে একদিন সারা দুনিয়া বর্ণ-সুবর্ণ সব মিলিয়ে এক মানবসমাজে রূপান্তরিতও হবে। হতে হবে। না হলে বিশ্বায়ন শব্দটি মিথ্যে হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ যে সম্ভাবনার খতিয়ান প্রতিদিন তৈরি করছে, তাতে জাতি বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থাশীল বলে মনে হয়। তারা আশাবাদীও। দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি ব্যতিত তো জাতির কোনো প্রত্যাশা নেই। ব্যক্তিগত পরিসওে সেটা থাকলেও তা কেবল কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা। সেটা একদিনে হবে না। একটা ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র তলটা যখন গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে, তখন তা ফুলে-ফলে পরিণত হতে সময় দিতেই হবে। বিএনপিঅলাদের মতো রাতারাতি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়া যাবে না। তা সম্ভব নয়। জনগণও তা ভালোচোখে দেখবে না। বিশ্বের প্রতিটি দেশের বিপ্লব-স্বাধীনতা সংগ্রামের পর পরাজিত-প্রতিক্রিয়াশীলেরা নানা আঙ্গিকে উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দখলবাজ-আধিপত্যবাদী আন্তর্জাতিক মহল। আজকে পাকিস্তান সে ভাবে বাংলাদেশের যুদ্ধাপারাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তা তাদের এ দেশিয় ঘাতক-দালাল চক্র এবং তাদের পুনর্বাসনকারী বিএনপির অপরাজনীতিকেই উৎসাহিত করছে। তারা ভাবছে, অপরাধ করলেও অনেক দেশ তাদের সমর্থন দেবে। সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গিও এ ক্ষেত্রে অনেকটা নমনীয় হয়েছে। একদিন এই সৌদিরাই যুদ্ধাপরাধী আর তাদের আশ্রয়দাতা বিএনপির পৃষ্ঠপোষক ছিলো। পাকিস্তানকে আজকে ‘সন্ত্রাসীরাষ্ট্র’ হিসেবে অনেক দেশ ঘোষণা দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করতে উদ্যত অনেকেই।

 

সার্ক সম্মেলনে পাকিস্তানে বাংলাদেশসহ ভারত-শ্রীলঙ্কা-ভূটান প্রমুখ দেশ অংশ না নেয়ায় সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে তারা। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ চুক্তি হতে যাচ্ছে, সেখান থেকেও পাকিস্তানকে বাদ দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে কোনো রাষ্ট্র সম্পর্ক ও চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এটা তাদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও সন্ত্রাসের ফলশ্রুতি। এ জন্যে পাকিস্তানের জনসাধারণকেও দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কিন্তু সেখানে তো নির্বাচিত সরকারের কোনো শক্তি নেই। সামরিক বাহিনির ওপর তাদের সব নির্ভর করতে হয়। সামরিক স্বৈরতন্ত্র-স্বেচ্ছাচারিতা আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পোষণের ফলে সৃষ্ট সন্ত্রাস পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আগামী দিনে তাদের অবস্থান হবে আরো ভয়াবহ। খোদ আমেরিকাও আর তাদের ওপর সন্তুষ্ট নয়। সেনাবাহিনির পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচিত নেওয়াজ শরীফের সরকারের মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা ছিলো উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। এমনও হতে পারে, দ্রুত সে দেশে সামরিক বাহিনি সরকারের ব্যর্থতা ও ভারতের প্রতি নতজানু নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে ক্ষমতা দখলে নেবে। বাংলাদেশের সরকার ও সেনাবাহিনি এমন বর্বরতার রাজনীতি করে না। করলে এই উন্নয়নটুকু হতো না। মানুষের আস্থার জায়গাটাও তৈরি হতে না।
শুরুতেই বলেছিলাম, বাঙালি জল-মাটি আর আলো-হাওয়ার গুণে আবেগপ্রবণ, ধর্মপ্রাণ এবং অতিথিবৎসল। মাছ-ভাতে সন্তুষ্ট। আর নিরাপদ জীবনকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। সন্ত্রাস-জঙ্গিপনা করে মুষ্টিমেয় কয়েকজন। তারা পৃষ্ঠপোষকতা পায় দেশের ভেতরের এবং বাইরের প্রতিক্রিয়াশীলদের। তাতেই মনে করে তারা মহাক্ষমতাধর। বর্তমান অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে রাজনীতি দিয়ে অপরাজনীতিকে নির্মূলের লক্ষ্যে সাফল্য অর্জন করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সেই রাজনীতিক শক্তিতেই অব্যাহত রেখেছেন। যাদের মনে করা হতো মহাশক্তিধর, প্রথমে তাদের বিচার এবং রায় কার্যকর করে সে রাজনীতির হাতিয়ার শাণিত করেছেন। প্রস্তাবিত প্রকল্প আর চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন হলে এ দেশে সন্ত্রাসীরা হারিয়ে যাবে। চিরতরে নির্মূল হবে দেশবিরোধীদের দুষ্কর্ম ও ষড়যন্ত্র। আশা করি, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সিঁড়ি নির্মাণে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে। জাতি সে দিনের প্রত্যশায় রয়েছে।