সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে নবদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যের পাদুকা

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দুই দেশের সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে নবদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে পাড়ি দিচ্ছে মহাপ্রভুর পাদুকা যুগল। মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পৌঁছবে। বুধ ও বৃহস্পতিবার পুজো, মহা অভিষেক হওয়ার পর নবদ্বীপে ফিরবে শ্রীচৈতন্যর কাঠের পাদুকা। ৫০০ বছরের পুরনো পাদুকা যুগল এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জেলায় গেলেও, এবারই প্রথম বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। সম্প্রীতি ও দুই দেশের সুসম্পর্কের বন্ধন অটুট রাখতেই পাদুকা পাঠানো হচ্ছে বলে বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কর্তারা জানান।
নবদ্বীপ শহরের মহাপ্রভু ধাম মন্দিরে শ্রী শ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির তত্ত্বাবধানে রয়েছে শ্রীচৈতন্যর পাদুকা যুগল। কাঠের এই পাদুকা দু’টি ৫০০বছর আগে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে দিয়ে গিয়েছিলেন স্বয়ং মহাপ্রভু। কথিত রয়েছে, শ্রীচৈতন্যদেব সন্ন্যাস নেওয়ার এক বছরের মাথায় শান্তিপুরে এসেছিলেন শচীমাতাকে দর্শনের জন্য। শচীমাতাকে দর্শনের পরেই পুরীধামে চলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অচমকা পুরীর যাত্রা বাতিল করে তিনি নবদ্বীপে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শ্রীবাস, গদাধরকে সঙ্গে নিয়ে কীর্তন করতে তিনি নবদ্বীপে চলে আসেন। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী সেই সময় বাড়িতে পুজো করছিলেন। সন্ন্যাসীদের স্ত্রীর মুখ দর্শনের নিয়ম নেই। তাই উঠোনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন মহাপ্রভু। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী ঘর থেকে বের হয়ে স্বামীকে প্রণাম করতে যান। প্রণাম শেষ হতেই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী দেখেন, এক জোড়া পাদুকা রেখে গিয়েছেন মহাপ্রভু। সামনে মহাপ্রভু নেই।
ওই দিন রাতে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী মায়ের স্বপ্নাদেশ পান, জন্মভিটের নিম গাছ থেকে কাঠের বিগ্রহ তৈরি করে পুজো করতে এবং তার সঙ্গে পাদুকাও পুজো হবে। সেই থেকে মহাপ্রভুর পাদুকা পুজো হয়ে আসছে।
বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ভাইয়ের বংশধররা ওই পাদুকা যুগল সুরক্ষিত রেখেছেন। ১৯৬০সালের পর ওই পাদুকা দু’টিকে একটি রুপোর খাপের মধ্যে রাখা হয়। একদা এই পাদুকা যুগল উত্তর ২৪পরগনার বারাসতে যেত ১বৈশাখ ও ১জানুয়ারি। এখন আর বারাসতে যায় না। ভক্তদের অনুরোধ মেনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও এই পাদুকা গিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরির পর পাদুকা যুগলের সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। অন্য জেলায় গেলে সামনে থাকে পুলিসের পাইলট কার এবং কড়া পুলিসি নিরাপত্তা।
শ্রী শ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতি সূত্রের খবর, পাদুকা যুগল নিয়ে যাওয়ার জন্য গত ১০বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে আনুরোধ আসছে। কোনওবার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের যামিনীমোহন সেন হলে একটি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মহাপ্রভুর পাদুকা যুগলের পুজো, মহা অভিষেক, দর্শন, সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। হরিভক্তি প্রচারিণী সভা এই উৎসবের উদ্যোক্তা। শুক্রবার ফের ভারতে ফিরবে পাদুকা যুগল।
বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কর্তারা জানান, দমদম বিমানবন্দর থেকে বিমানে বাংলাদেশে যাবে পাদুকা যুগল। বাংলাদেশ থেকে একইভাবে মহাপ্রভুর পাদুকা ফিরবে।
বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সহ সম্পাদক সুদীন গোস্বামী বলেন, মহাপ্রভুর পিতৃভূমি বর্তমান বাংলাদেশের সিলেটে। লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবীকে বিয়ের পর একবার সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর আর যাননি। পিতৃভূমি বর্তমান বাংলাদেশে মহাপ্রভুর পাদুকা পাঠানোর আমাদেরও ইচ্ছা অনেক দিনের। তাই পাদুকা যুগল পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে দুই দেশের সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি রক্ষায় মহাপ্রভুর পাদুকা যুগল ওদেশে যাচ্ছে।
হরিভক্তি প্রচারিণী সভার প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রেমগোপাল গোস্বামী বলেন, এখানকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিতে মহাপ্রভুর পাদুকা যুগল নিয়ে আসছি। দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। এর আগেও আমরা চেষ্টা করেছি নিয়ে আসতে। তবে এবার কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশে আসছে মহাপ্রভুর পাদুকা। তথ্যসূত্র: বর্তমান