বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

সম্মেলন ঘিরে নগরীজুড়ে সাজ সাজ রব কাল জেলা আ’লীগের সম্মেলন

আপডেট: December 7, 2019, 1:41 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


জেলা আ’লীগের সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ নেতৃবৃন্দ-সোনার দেশ

সড়কে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। তাতে শোভা পেয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানসহ জাতীয় চারনেতার ছবি। সড়কে টানানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। রাজশাহীর বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠজুড়ে চলছে বড় মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কর্মযজ্ঞ। নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে সাজ সাজ রব। আর এসবই করা হচ্ছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে। দীর্ঘ পাঁচবছর পর কাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। বিভিন্নস্থানে টানানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে চলছে বড় মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ। নেতাকর্মীদের কয়েকদফা মাঠ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বেলা ১১টার দিকে মাঠ পরিদর্শন করতে যান। বিকেলে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সাংসদ এনামুল হক, সাংসদ আয়েন উদ্দিন, সাংসদ ডা. মনসুর রহমান ও সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঠ পরিদর্শন করতে দেখা যায়। গতকাল রাতে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ কমিটির সর্বশেষ সভা। সেখানেও ব্যাপক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জায়।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘সম্মেলন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। কাল (শনিবার) দুপুরের মধ্যে বাকি কাজটা সম্পন্ন হয়ে যাবে’।
ইলেকশন বা সিলেকশন যা-ই হোক না কেন, কালই ফয়সালা হয়ে যাবে কে হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কাণ্ডারি। বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ এবার দলের নেতৃত্ব দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীই।
এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দেয়া হলে আবারও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে চান ওমর ফারুক চৌধুরী। আর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে তাই মেনে নেবেন আসাদ। এছাড়া সভাপতি হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা এবং জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেগম আখতার জাহান। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন ও যুব মহিলালীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রাজশাহীর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আদিবা আনজুম মিতা। এছাড়া পবা- মোহনপুর আসনের সাংসদ মো. আয়েন উদ্দিন ও বাগমার আসনের সাংসদ এনামুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও কেন্দ্র থেকে মনোনীত করলে তারা দলের দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীরাও তাদের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনার কথা প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেও দলীয় সভাপতি যাকেই নির্বাচিত করবেন সেই বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেছেন।
পুঠিয়া আওয়ামী লীগের কর্মী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে শুদ্ধি অভিযান চলছে এই সম্মেলন সেই অভিযানকে বেগবান করবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এমন নেতৃত্ব প্রদান করবেন আমাদের যাতে করে তৃণমূলের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে।
পবা আওয়ামী লীগের কর্মী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দীর্ঘ পাঁচবছর সম্মেলন হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই আমাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আকাক্সক্ষাটা বেশি। সবার মধ্যেই একটু উৎসব উৎসব ভাব বিরাজ করছে।
‘দেশরত্ম শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কাল রোববার সকাল ১০টায় রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।