বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে দুর্নীতি! অভিযোগের গ্রহণযোগ্য তদন্ত হোক

আপডেট: January 17, 2020, 1:18 am

সরকারের একটি ভাল উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রান্তিক কৃষক যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সেই লক্ষে এবার কৃষকদের তালিকা করা হয়েছিল। এবং লটারির মাধ্য কৃষক নির্ধারণ করে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি উদ্যোগে ধান ক্রয়ের উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হ্েচ্ছ। প্রকৃত কৃষকরা অভিযোগ করেছেন যে, ধানক্রয় কার্যক্রমটি দালাল-ফড়িয়া এবং খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে পরিচালিত হচ্ছে। আর প্রকৃত কৃষকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ে কৃষকদের লটারির মাধ্যমে তৈরি তালিকা সঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ১১ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আমন ধান সংগ্রহ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি ওই কথা বলেন। অর্থাৎ কৃষকের অভিযোগের যে সত্যতা আছে তা খাদ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তিতেই মিলে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থ বছরে রোপা-আমন ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজসে সক্রিয় সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাবনা থেকে আনা চালের ট্রাক ফেরত দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ধান-চাল ক্রয় বন্ধ রয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে ঈশরদী থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এক ট্রাক (পাবনা-ট-১১-১০৫৩) চালক চাল গোডাউনে নিয়ে এসে নামানোর সময় উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু হাতে নাতে ধরে চালসহ ট্রাকটি খাদ্য গোডাউন থেকে বের করে দেন। অথচ এই চাল প্রকৃত মিলারদের থেকে কেনার কথা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, লটারিতে নাম উঠার পর তারা ধান নিয়ে উপজেলায় যায়। কিন্তু উপজেলায় খাদ্য অফিসে ধান নিয়ে যাওয়ার পর তারা, ধানে আর্দ্রতা কম আছে, ধানে চিটা আছে, কালার খারাপ অজুহাত দিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ধান ফেরত দেয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ব্যাপারে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু এই তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা তার বিভাগের কর্মচারিদের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষেত্রে সন্দেহ থেকেই যায়। বরং কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত কার্যটি পরিচালিত হলে এর গ্রহণযোগ্যতা থাকে।
সরকার মহৎ উদ্দেশ্যেই সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা যদি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত না হয় তাতে সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িয়ে আছে। কোনো অসৎ গোষ্ঠির জন্য মহৎ একটি উদ্দ্যোগকে ভেস্তে দেয়া যায় না। স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদেরই এ দায় নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ