সরকারের চার বছর পূর্তি || স্বপ্ন জয়ে অগ্রসর বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার আজ চার বছর অতিক্রান্ত করে পাঁচ বছরে পদার্পণ করলো। ২০১৪ সালের ৫ জানুযারি নির্বাচনের পর অনেক আলোচনা- সমালোচনার পর বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরে পদার্পণের কাহিনিটা বেশ সফল। নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের বিএনপি-জামাত জোটের নজিরবিহীন সহিংসতার পর ২০১৫ সাল থেকেই রাজনীতি স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। এর পুরো সুফলটাই পেয়েছে মহাজোট সরকার। নতুন বছরের শুরুতেই দেশের মানুষ কিছুটা উত্তেজনা বোধ করছিল যে, ৫ জানুয়ারি ঘিরে বিএনপি-জামাত জোট এবং ক্ষমতাসীনদের মধ্যে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতাসীনদের মুখোমুখি হওয়ার মত শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি তা আবারো প্রমাণ হলো।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির নির্বাচন প্রতিহত করার উদ্যোগ এবং নির্বিচার সহিসতা বিএনপির শক্তি-সামর্থকেই মারাত্মকভাবে খর্ব করেছে- রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তেমনটিই বলছেন। জাতীয় রাজনীতিতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিএনপি দল হিসেবেও আস্থা ও অনাস্থার সঙ্কটেই শুধু পড়েনি দলটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এটা দলটিকে অনেকটাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ নিবন্ধিত অর্ধেকের বেশি দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেয়।
১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র দলের নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির নির্বাচন প্রতিহতের কর্মসূচিতে সহিংসতার শঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যায়। নির্বাচন প্রতিহতের ডাক দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সহিংস কর্মকা-ে অগ্নিদগ্ধ অনেক মানুষ নিহত হয়। ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে ফেলা হয়, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করা হয়। দেশের মানুষ এই সহিংসতা বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
পরে নির্বাচন কমিশন জানায়, যে সব আসনে নির্বাচন হয়েছে সেগুলোতে ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশের উপর।
এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলেও সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনেই তা করা হয়েছে। বরং এই নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক শুন্যতা শুরু হতÑ তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কাও ছিল। নির্বাচন নিয়ে দেশে ও বিদেশে নানা প্রচারণা থাকলেও নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ গন্য করার কোনো সুযোগ ছিল না। মহাজোট সরকার দ্রুততার সাথে তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবেই নির্বাচন স্বীকৃত হয়। একই সাথে বর্তমান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিতে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়। কূটনৈতিক সাফল্যের দিক থেকেও বর্তমান সরকার নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জামাত-জোটের প্রচারণা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে নি।
বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করেছে যা বাংলাদেশকে মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। দেশ এখন নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে আছে। সাম্প্রতিক বন্যায় ফসল ও অবকাঠামোর ক্ষতি করলেও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর তার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। স্বঅর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ ইতোমধ্যে ৫০ ভাগের বেশি বাস্তবায়িত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অনেকগুলো মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। মোটের ওপর বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান মহাজোট সরকার। জাতির মধ্যে স্বপ্ন সঞ্চালনে পারদর্শিতাও কম বড় সাফল্য নয়। আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির জাগরণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ