সহজ-সরল জীবনযাপন আর উন্নত চিন্তা সব শিশুর অন্তরে জ্বালাবে আলো

আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

৯ অক্টোবর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ -২০১৯ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহজ-সরল জীবনযাপন আর উন্নত চিন্তা করা- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে এমন শিক্ষা পাওয়ার কথা স্মরণ করেন। তিনি শিশুদেরকেও এটি অনুসরণের পরামর্শ দেন। যখন দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি এক সংক্রামক ব্যাধির মত সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে- তখন প্রধানমন্ত্রী এই অনুভব ও পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। সময়ের দাবিকেই তিনি তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রতিভাত করেছেন।
সমাজের অবক্ষয়ের দিকগুলো এতই প্রবল ও আলোচিত যে তা খুব সহজেই আমাদের শিশুদেরকে প্রভাবিত করছে। হয়ত তাদের মধ্যে এসব বিষয় নানাভাবে নানা প্রশ্নের উগ্রেক করছে- যার উত্তর তারা খুঁজে পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি শিশুর শিক্ষা, বেড়ে ওঠা এবং একই সাথে সৌহার্দ- সম্প্রীতি বোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। শিশুরা সমাজের দুর্বৃত্তায়নের ব্যাপারে যখন প্রশ্নের উত্তর পায় না তখন তারা ওই পরিস্থিতিকে খুবই স্বাভাবিক ভাবতে থাকে। এই ভাবনা তার অভিজ্ঞতার মধ্য দিরয়েই অর্জিত হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই শিশু বেড়ে ওঠার একপর্যায়ে দুর্বৃত্তায়নের সাথে নিজের সংহতি প্রকাশ করে এবং দুর্বৃত্তায়নের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এভাবে রাষ্ট্র সমাজ দুর্বৃত্তায়নের করাল গ্রাসে ক্রমশ নিমজ্জিত হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চেয়েছেন।
এই পরিত্রাণ তো এমনি এমনি আসবে না। শিশুর মধ্যেই সেই ধারণাকে প্রোথিত করতে হবে। যেমন করে একজন সাধারণ বঙ্গবন্ধু অসধারণ হয়ে উঠেছিলেন। বাংলাদেশ নামের দেশ সৃষ্টি করেছেন। দেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বুকে নিজেকে সঞ্চারিত করেছিলেন। তিনি মানুষকে ভাল বেসেছেন, দেশের মানুষও তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় বেঁধেছেন। বঙ্গবন্ধু এখনো সেই ভালবাসায় বাঁধা পড়ে আছেন, থাকবেন- বাঙালি যতদিন একটি জাতি হিসেবে ঠিকে থাকবে। সেই বঙ্গবন্ধুই তো জাতির আলোকবর্তিকা। তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের পথ চলার দিশারী। বঙ্গবন্ধুই তো জাতির শ্রেষ্ঠ বীর। তাঁকে শিশুদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। প্রতিটি শিশুই যেন একেক জন বঙ্গবন্ধুর মত নিজেকে ভাবতে শিখে। সেভাবেই যাতে দেশ ও মানুষকে অনুভব করতে শিখে। তবেই না দুর্বৃত্তায়নের জঞ্জাল সরিয়ে এক মানবিক সমাজ গঠিত হবে!
কিন্তু শিশুমনকে সমাজের বিদ্যমান কুপ্রভাব থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায়? এটা একটি বৃহত্তর প্রশ্ন। এর জন্য সমাজের শুভশক্তির উত্থানটা খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে। এইসব মানুষের সংঘবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। এর একমাত্র কাণ্ডারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই পারেন দুর্বৃত্তায়নের বৃত্ত ভেঙ্গে এ সমাজকে বাসযোগ্য করে তোলার নেতৃত্ব দিতে। তিনি সে কাজটি শুরুও করেছেন। সমাজের ওই সব মানুষদের সমবেত করবেন, যারা শক্তিহীন, কোণঠাসা দুর্বৃত্তের কাছে- তাদেরকেই ক্ষতাবান করার এখনই প্রকৃত সময়। সমাজের ভাল মানুষ- তারা একবার সংগঠিত হতে পারলে দুর্বৃত্তরা যতই শক্তিশালী হোক তারা পরাস্ত হবে। আমাদের শিশুরা সুরক্ষিত হবে এবং তারাই হবে, তাদের বুকে বঙ্গবন্ধুসম্পন্দিতপ্রাণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ