সাঁওতাল শিশুদের নিজের ভাষায় লেখাপড়া করার অধিকার রয়েছে-লিটন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৮, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সান্তাল আদিবাসী ছাত্র সংগঠন সান্তাল স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের (সাসু) উদ্যোগে ‘সান্তলী বর্ণমালা বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নগর আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-সোনার দেশ

সাঁওতাল জনগোষ্ঠির শিশুদের নিজের ভাষায় লেখাপড়া করার অধিকার রয়েছে। এই লেখাড়ার ক্ষেত্রে সবাইকে একমত হতে হবে কোন বর্ণমালায় এই লেখাপড়া করা হবে। গতকাল সান্তাল আদিবাসী ছাত্র সংগঠন সান্তাল স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের (সাসু) উদ্যেগে ‘সান্তলী বর্ণমালা বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন । গতকাল শুক্রবার রাজশাহী জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কথা বলেন, নগর আ’লীগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সভায় বক্তারা সান্তালী লিপি দিয়েই সান্তাল শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়েনের দাবি জানায়।
মহানগর সাসু সভাপতি সেনাস মার্ডীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন ‘বাংলাদিশম সান্তাল বাইসি’ সভাপতি এসসি আলবার্ট সরেন, আদিবাসী মুক্ত মোর্চা সভাপতি যোগেন্দ্রনাথ সরেন, উত্তরবঙ্গ আদীবাসি ফোরামের সভাপতি হিংগু মুরমু, রাজশাহী জেলা পারগানা বাইসির পারগানা কামেল মার্ডী ,সান্তাল লেখকফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রভাত টুডু ।
সভায় বক্তারা বলেন, সান্তালী ভাষার শুদ্ধভাবে এবং ব্যকরণ সম্মতভাবে লেখ্যরুপের সূচনা হয়েছিলো ১৮৪৬ সালে। রোমান থেকে আগত সান্তালী বর্ণমালা দিয়েই শুদ্ধ ও মাধুর্য্যপূর্ণভাবে উচ্চারনের সাথে সান্তালী ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা হয়ে আসছে। সান্তালী বর্ণমালা দিয়েই বিজ্ঞান ও কলা, শিল্প ও সাহিত্য, দৈনন্দিন জীবনের গল্প, কবিতা গান ছড়া উপন্যাস, গ্রন্থ প্রভতি সাহিত্যের বিশাল ভান্ডার রচিত হয়েছে। বক্তারা আরো বলেন , গুটি কয়েক লোক স্বীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য সান্তাল আদিবাসীদের জনপ্রিয় প্রাণের বর্ণমালাকে উপেক্ষা করে বাংলা অলচিকিসহ নিত্য নতুন বর্ণমালা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়ে সান্তাল শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
১৯০৫ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ অঞ্চলের বেগুনবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সান্তালী ভাষায় নার্সারি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। বর্তমানে পৃষ্ঠপোষকতায় অভাবে সান্তাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে সান্তাল শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আরো বেগবান হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ