সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি বিবেচনার দাবি রাখে

আপডেট: জুন ১৭, ২০১৯, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাংস্কৃতিক খাতে অপ্রতুল বরাদ্দের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দেশের সংস্কৃতিকর্মিরা। বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মিরা সড়ক-ধারে মানববন্ধন করে সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজশাহীর সংস্কৃকির্মিরা শনিবার বিকেলে নগরীর আলুপট্টি মোড় বঙ্গবন্ধু চত্বরে প্রতিবাদ-সমাবেশ থেকে সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন দেশব্যাপি ওই দাবিতে প্রতিবাদ-সমাবেশ করছে। সংস্কৃতিকর্মিদের দাবিমতে, প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থ বছরের বরাদ্দের চেয়েও কম বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। যা সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে অবহেলারই সামিল।
সংস্কৃতিবান মানুষমাত্রই সংবেদনশীল। তারা সমাজের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সৃষ্টিশীল মানুষ। সংস্কৃতিকর্মিরা সমাজের অত্যন্ত সচেতন একটি অংশ। যারা সমাজ-প্রগতিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছেন। সংস্কৃতিকর্মিরা সমাজের অন্বিষ্ট কোনো কাজে সাধারণত লিপ্ত হয় না। এদের চিন্তায় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণই মূখ্যত। সামাজিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটে সংস্কৃতিকর্মিরা বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন। দেশের যা কিছু মহৎ ও কল্যাণকর কর্মকা– তার সব ক্ষেত্রেই সংস্কৃতিকর্মিদের অগ্রসর ভূমিকা ছিল। অনেক সময় সংস্কৃতিকর্মিরা যে ন্যায়ের আন্দোলন শুরু করেছেন- সেটাই পরে জাতীয় রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ হয়ে গেছে। বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মিরা প্রাণ ও গতির সৃষ্টি করেছেন।
স্বাধীনতার পরেও সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মিদের সাহসী ও গৌরবদীপ্ত ভূমিকা ইতিহামেরই অংশ। জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মিরা প্রতিমূহূর্ত সোচ্চার ছিলেন। কোনো রক্তচক্ষুকে তারা প্রশ্রয় দেয় নি। জঙ্গিদের কোপানলে সংস্কৃতিকর্মিদেরই আগে পড়তে হয়েছে। জীবন দিতে হয়েছে। শুভবোধের প্রতি সংস্কৃতিকর্মিদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি- বাঙালির আবহমান কাল ধরে চলে বহুত্ববাদী চেতনার মৌল দর্শনকে বহে বেড়াচ্ছে। এটা তো বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের চূড়ান্ত লক্ষ্যও বটে। তা হলে কেন সংস্কৃতিকর্মির প্রতি এতো অবহেলা, বঞ্চনা? এটা মোটেও স্বস্তির সংবাদ নয়। দেশের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি যা দেশের সিংহভাগ সংস্কৃতিকর্মি তাদের চিন্তা চেতনায় ধারণ করে তারা তো বঞ্চিত থাকতে পারে না। এতে করে সাম্প্রদায়িক শক্তিই বিকশিত হবে। অথচ সাম্প্রদায়িক শক্তির কিরুদ্ধে সংস্কৃতিকর্মিরাই প্রধান-সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার জঙ্গিবাদকে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। এটা দেশবাসীর জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক শক্তি শেষ হয়ে গেছে। বরং একটি জঙ্গিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা সময়েরই দাবি যা সংস্কৃতিকর্মিরা একেবারে নিজের মত করে করতে পারে। কিন্তু সেটা করার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্কৃতিকর্মিদের সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি খুবই সময়োপযোগী। সরকার বিষয়টিকে বিবেচন্ করবে বলেই আমাদের ধারণা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ