সান্তাহারে জাপা নেতার সংবর্ধনায় শ্রমিক লীগের হামলা

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁর পার্শ্ববর্তি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে শ্রমিক লীগের হামলায় পন্ড হয়ে গেছে যুবলীগ নেতা শফিকুল হত্যার প্রধান আসামি জাতীয় পার্টির আদমদীঘি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান সুমনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
জানা গেছে, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি দুপুরে শ্রমিক নেতা নুর ইসলামের অনুসারিদের সঙ্গে জাপা নেতা সুমনের অুনসারিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এঘটনায় ওই দিনই নিহত হন নুর ইসলামের ছোট ভাই সান্তাহার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। তার দুই দিন পর মারা যায় সংঘর্ষে আহত অটো চালক সোহরাব হোসেন সোহাগ। এ মামলায় পর্যায়ক্রমে সব আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। এর ধারাবাহিকতায় প্রায় মাসখানেক আগে জামিন লাভ করে ওই মামলার প্রধান আসামি জাপা নেতা ফেরদৌস হাসান সুমন।
সুমন গতকাল শনিবার সান্তাহারে আসছেন এমন খবরে মামলার বাদী পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি জাপা নেতাকে নিয়ে শহরে কোন শোডাউন না করার নির্দেশ দেয়। এতে জাপার নেতা ও কর্মীরা সম্মত হয়। ঢাকা থেকে বেলা পৌনে একটার দিকে জামিনে মুক্ত জাপা নেতা ফেরদৌস হাসান সুমন শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার জাপা কার্যালয়ে প্রবেশ করে।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সায়িদ ওয়াহেদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান এ অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক রাসেদুল ইসলাম রাজা দায়ী। সে প্রতিহিংসার বসবর্তি হয়ে এঘটনা ঘটিয়েছে। ওসি আরো বলেন, জাপা নেতা সুমন পার্টি কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এই খবর পেয়ে রাসেদুল ইসলাম রাজার নেতৃত্বে শ্রমিক লীগের বিপুল সংখ্যক সমর্থক ধারালো অস্ত্র, লাঠি সোঠা ও লোহার রড নিয়ে জাপা কার্যালয়ে হামলা চালায়।
এদিকে হামলা চালানোর খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে আত্মরক্ষা করে সুমন ও তার অনুসারিরা। পরে হামলাকারীরা জাপা কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এঘটনার সময় মানুষ আতঙ্কে দিক-বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। ব্যবসায়ীরা বন্ধ করে দেয় তাদের প্রতিষ্ঠান। সব যানবাহন ভাঙচুরের ভয়ে পালিয়ে শহরের বাইরে অবস্থান নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার ফাঁড়ি পুলিশ।
এ ঘটনায় নিরাপত্তার দাবিতে বেশ কিছু ব্যবসায়ীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের প্রধান রাস্তায় বিক্ষোভ করে। বর্তমানে শহরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে সে জন্য শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ