সাপাহারের বরেন্দ্র মাটিতে আনারস চাষের সম্ভাবনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

মফিজ উদ্দীন, সাপাহার


সিলেট কিংবা মধুপুরের সুমিষ্ট রসালো ফল আনারস এখন নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহারে চাষাবাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আর সে সম্ভাবনাকে হাতে কলমে প্রমাণ করেছেন বেসরকারি সংগঠন আলোহা সোস্যাল সার্ভিসেস বাংলাদেশের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।
সম্প্রতি তারা দেশের সিলেট অঞ্চল থেকে আনারসের চারা সংগ্রহ করে সংগঠনের কিছু সম্পত্তি ও কিছু বর্গা নেয়া সম্পত্তিতে চারা রোপণ করে যতœ নিয়েছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের যতœ নেয়া আনারসের গাছগুলি সুন্দরভাবে সতেজ ও তরতাজা হয়ে ওঠে এবং মৌসুমে প্রায় প্রতিটি গাছে একটি করে আনারস আসে। রুক্ষ বরেন্দ্র এলাকায় প্রথম তাদের নিজ হাতে লাগানো গাছগুলিতে আনারস দেখে সকলের মন আনন্দে ভরে ওঠে।
জানতে চাইলে ওই অফিসের ব্যাস্থাপক বেলাল উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আলোহা সোস্যাল সার্ভিসেস বাংলাদেশ নামের বেসরকারি সংগঠনটি ২০০৮ সালে সাপাহার উপজেলায় এসে এলাকার কৃষি খাতকে উন্নয়নশীলকরণে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেসঙ্গে নিজ উদ্যোগে অফিস ক্যাম্পাসে বিখ্যাত ড্রাগন ফল, মালটা, কমলাসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় গাছের চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর গত ২০১৫ সালে প্রথম আনারসের চারা সংগ্রহ করে তারা অফিস এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন। পরবর্তীতে এক বছর পর ২০১৬ সালে প্রথম সাপাহারে উৎপাদিত আনারস বাজারজাত করেন এবং ২০১৭ সালে এর পরিধি একটু বৃদ্ধি করে তাদের উৎপাদিত আনারস বাজারজাত করে সকল উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা মুনাফা লাভ করেন। বরেন্দ্র এলাকার মাটি রুক্ষ হওয়ায় এবং তারা আনারস খেতে পর্যাপ্ত হরমন জাতীয় কীটনাশক ব্যাবহার না করায় সিলেট কিংবা মধুপুরের আনারসের চেয়ে সাপাহারের আনরস আকারে একটু ছোট হয়েছে। কিন্তু এর স্বাধ কিংবা মিষ্টিগুণ অন্যান্য এলাকার আনারসের চেয়ে অনেক বেশি। তবে খেতে পর্যাপ্ত সেচ ব্যাবস্থা, সুষ্ঠু পরিচর্যা ও হরমন জাতীয় কীটনাশকের ব্যবহার করলে এর আকার সিলেট কিংবা মধুপুরের আনারসকে ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। সাপাহার এলাকার মাটি রুক্ষ বরেন্দ্র হলেও এই মাটিতে আনারস চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি তার মত ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন জানান, আলোহা সোস্যাল সার্ভিসেস বাংলাদেশের উৎপাদিত আনারস তিনি খেয়েছেন এবং অন্যান্য এলাকার আনারসের চেয়ে এর গুনাগুণ অনেক বেশি বলেও জানিয়েছেন। তিনিও মনে করেন সাপাহারের বরেন্দ্র রুক্ষ মাটিতে আনারস চাষের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে তিনি এলাকার কৃষকদের আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করবেন বলে জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ