সাপাহারে আমের পর এবার করল্যা চাষে সাফল্য

আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মফিজ উদ্দীন, সাপাহার


সাপাহার উপজেলার বাহাপুর মোড়ে অস্থায়ী করল্যা বাজার-সোনার দেশ

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার সবজী করল্যা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে উপজেলার করল্যা চাষিরা। করল্যা বিক্রি করে অনেকেই এখন স্বচ্ছল ভাবে হাসিখুশি জীবন যাপন করছে।
আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনবে সাপাহারকে, এমনটাই মনে করছেন উপজেলার কৃষকরা। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার চাষিরা করল্যা চাষে উৎসাহীত হয়ে তাদের হাইব্রীড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করল্যা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে কিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা লাভ করত। পরবর্তীতে সাপাহারে করল্যা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা তরিতরকারীর ব্যাবসায়ীরা চলে আসেন সাপাহারে। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার করল্যা চাষিদের সেন্টার হিসেবে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের বাহাপুর মোড়ে গড়ে ওঠে প্রতি দিনের জন্য ৩/৪ঘন্টার এক অস্থায়ী মৌসুমী বাজার। ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকার করল্যা চাষিরা তাদের উৎপাদিত করল্যা নিয়ে চলে আসে এই বাজারে এবং ক্রেতারা তাদের কাছে বিভিন্ন দামে করল্যা ক্রয় করে মিনি ট্রাক যোগে সকাল ১০টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে যায় নিজ গন্তব্যে। বর্তমানে প্রতি মন করল্যা হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে ওই অস্থায়ী বাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হয়তো করল্যার বাজার কিছুটা বৃদ্ধি পবে বলেও অনেক করল্যাচাষি মনে করছেন। প্রতিবছর আগস্টের ১৫তারিখ থেকে অক্টোবরের ১৫/২০তারিখ পর্যন্ত চলে এই মৌসুমী অস্থায়ী বাজার। এবছর আগস্টের ১২তারিখ ঈদ-উল আজহা পালিত হওয়ায় কয়েক দিন হল বাজারটি জেঁকে বসেছে এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরাও আসতে শুরু করেছে এই বাজারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই বাজারে গিয়ে প্রতিমন করল্যা এক হাজার থেকে বারশ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। করল্যার অস্থায়ী এই বাজারে এসে ঢাকার কওরান বাজারের আনোয়ার হোসেন নামের এক সবজি ব্যাবসায়ী জানান, সাপাহারের করল্যা সবজির গুনগত মান ভাল ও এখান থেকে করল্যা কিনে লাভ ভাল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করল্যা রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে সরবরাহ করছেন।
এলাকার স্থানীয় করল্যা চাষি] উকিলবাবু, আনারুল, ছয়ফুল ও আবদুল মালেকসহ বেশ কিছু করল্যা চাষির জানান, অস্থায়ীভাবে উপজেলা সদরের বাইরে এই স্থানে করল্যার বাজার গড়ে না উঠলে এখানকার করল্যা চাষিরা এই হারে করল্যা চাষাবাদ করতনা। এখন করল্যা চাষ করে বিক্রি করার তাদের কোন ভয় নেই। বর্তমানে তারাসহ অনেকেই এখন করল্যা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। অস্থায়ী ওই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন এই অস্থায়ী কয়েক ঘন্টার বাজার হতে প্রায় ১শ’ থেকে ১৫০টন করল্যা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মো. আতাউর রহমান সেলিম বলেন, কয়েক বছর ধরে করল্যা চাষ এ উপজেলায় চাষিদের মাঝে এক নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশি, হাইব্রীড, সোনামুখীসহ বিভিন্ন জাতের করল্যা চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। কৃষি অফিসের তথ্য মতে এবছর উপজেলায় ১শ’৫০ থেকে ২শ’ বিঘা জমিতে করল্যা চাষাবাদ হয়েছে। করল্যা ক্ষণস্থায়ী ফসল হলেও এবারে এর ব্যাপক ফলন হয়েছে দামও রয়েছে কৃষকের মনের মত। আবহাওয়া আর কিছু দিন চাষিদের অনুকুলে থাকলে করল্যা চাষের মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে বলেও কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। অস্থায়ী মৌসুমী করল্যা বাজারটি উপজেলা সদর থেকে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দুরে বাহাপুর মোড়ে। প্রতিবছর একই সময়ে দুই থেকে আড়াই মাসব্যাপী এবং প্রতিদিন সকাল ৭টায় বসে সাড়ে ১০টার মধ্যেই শেষ হয় এই বাজারটি।
সাপাহার উপজেলার আমচাষিরা এবছর আম চাষে যেমন এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন ঠিক তেমনটাই করল্যা চাষেও বিপ্লব ঘটাবে বলে করল্যা চাষিরা ও উপজেলা কৃষি দফতর মনে করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ